
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আসামি গ্রেপ্তার, রাতের টহল ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে বলেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
গত ৩ আগস্ট চুনারুঘাট থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এর আগে তিনি বাহুবল মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চুনারুঘাটে যোগদান করেই একাধিক অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার সহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ সহ সহযোগী সংগঠনের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীদের ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় । ১৮ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে সাজা ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ একাধিক আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ওসি সাইফুল ইসলাম।
সর্বশেষ ৫ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের বদরগাজী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই অভিযানেও ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযান পরিচালনার কথা প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও পুলিশের টহল ও তৎপরতা বাড়ানোর ফলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষ করে বাজার, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হলে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চুনারুঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে । গত ৫ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, পূজা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায়ও ওসি সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পূজাকে সামনে রেখে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি এবং হিন্দু-মুসলিমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা এড়িয়ে যেকোনো অপতৎপরতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চুনারুঘাট থানায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। সম্প্রতি থানার এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষসংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওসি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন থানার প্রধান কর্মকর্তা যদি নিয়মিত মাঠে থাকেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন, তাহলে থানার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। ওসি সাইফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও এমন একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নয়ন ধরে রাখতে শুধু অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দালালমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
চুনারুঘাটবাসীর প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা পাবেন।
দ.ক.২৬