দিনব্যাপী আয়োজনে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে গান, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি এবং হাওরবাসীর জীবনধারার সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠেন দেড় শতাধিক প্রকৃতিপ্রেমী, সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শব্দকথা সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রেম ও দ্রোহের কবি মনসুর আহমেদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান তরফদার জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন শব্দকথা হাওর বিলাস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হেলাল আহমেদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব হাবিব খোকন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, সংগীতজ্ঞ স্বদেশ দাস, হবিগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী জুনায়েদ মিয়া, সংগীতশিল্পী গোপী মোহন দাস, পুটিজুরী শরৎচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক পঙ্কজ কান্তি গোপ, শিক্ষক মো. আব্দুল মালিক, আলমগীর হোসেন চৌধুরী, নাট্যভাষ্করের সভাপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী পাপলু, প্রকৌশলী আশরাফুল আলাম, চিকিৎসক মো. আব্দুল আহাদ, অগ্রগামী গণপাঠাগারের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সংগঠক এনি মনি দাস, নারী উদ্যোক্তা এস. কে. নাহারসহ বিশিষ্টজনেরা।
বর্ষার বুকে কাব্যযাত্রা পর্বে কবিতা আবৃত্তি করেন সৈয়দা বেলী, ইসরাত জাহান ফাল্গুনী ও প্রকৃতি দাস। লোকসুরে নৌযাত্রা পর্বে গান পরিবেশন করেন সিরাজ বাউল, নুরুন্নাহার শিমুল, মো. দুলাল, জগৎ সরকার, হৃদয় বৈষ্ণব, সৌরভ দাস, চৌধুরী তাওহীদ বিন আজাদ, পুলক দাস এবং দ্বীপ সরকার।
দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাওরের বুকে নৌকায় বসে ভাটিয়ালি, বাউল ও লোকসংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। বর্ষা, হাওর ও বাংলার প্রকৃতিকে ঘিরে কবিদের কবিতা পাঠ এবং সুর-শব্দ-প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন পুরো আয়োজনকে এনে দেয় এক ভিন্ন মাত্রা।
আয়োজকরা জানান, হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভাটির জনপদের জীবনধারা এবং বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সাহিত্য, সংগীত ও প্রকৃতির সমন্বয়ে ‘শব্দকথা হাওর বিলাস’ ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
দ.ক.সিআর