
বাহুবল প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা।
তাদের অভিযোগ, একটি বিশেষ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাহুবলে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্য নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।
ঘটনার পেছনের আসল কারণ-
মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল বাজারে অবস্থিত *বাহুবল উপজেলার পুরাতন হাসপাতালের জায়গাটি* সরকার বাহাদুর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ করে দিয়েছেন। এই জায়গাটি দখল করার অপচেষ্টা করে একটি মহল।
অভিযোগ রয়েছে, যারা আসল বাহুবল প্রেসক্লাবে জায়গা পায়নি, তারাই “বাহুবল প্রেসক্লাব” নামে একটি ভূয়া সংগঠন খুলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই জায়গায় তাদের ব্যানার টাঙায়।
বিষয়টি নজরে আসার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেন এবং অবৈধ ব্যানার নামিয়ে দেন। এই ঘটনার জের ধরেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতির সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলী আরও অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি বালু অবৈধভাবে পাচার করছে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “আমার এলাকাটা অতি দরিদ্র এলাকা। এই অবৈধ বালু পাচারকারীরা অত্র এলাকার ৫/৬টা ট্রান্সফরমারও চুরি করে নিয়ে গেছে। আমিই সবার আগে এর প্রতিবাদ করেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই আজ আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
*মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া*
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “ফিরোজ আলী সারাজীবন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে গেছেন। ভাতা, ঘর বরাদ্দ, জাতীয় দিবসের আয়োজন – সবকিছুতেই তিনি স্বচ্ছতার সাথে কাজ করেছেন। যারা আজ অভিযোগ করছে, তাদের অনেকেরই মুক্তিযুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।”
তারা আরও বলেন, “এরা গুপ্ত রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নষ্ট করাই এদের মূল লক্ষ্য।”
*আগের অভিযোগ প্রসঙ্গে*
অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, “প্রশাসনিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে ইউএনও মহোদয় একবার সতর্ক করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি সব নিয়ম মেনেই চলছেন। এটাকে ইস্যু বানিয়ে এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
*প্রশাসনের প্রতি আহ্বান*
এদিকে বাহুবলের সচেতন নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তাদের মতে, “যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আঘাত করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলী বলেন, “আমি সারাজীবন দেশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করেছি। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন তা রক্ষা করাই আমার দায়িত্ব। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সত্যের জয় একদিন হবেই।”
দ.ক.সিআর.২৬