
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলার আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল মিয়া এ আবেদন করেন।
গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে দাখিল করা ওই আবেদনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র, মেরামত, শ্রান্তি বিনোদন, নৈশ প্রহরী নবায়ন, গোদামের বই বিক্রয়, শিক্ষক মৌখিক ডেপুটেশন, সাবক্লাস্টার, ইন্টারনেট বিল, যাতায়ত ভাতা, প্রশ্নপত্র প্রনায়ন, ভবন নির্মান, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি খাত হইতে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাকিরুল হাসান কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারীকে বদলীসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানানো হয়।
আহম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত অফিসার ইতিপূর্বে যত বার বদলী হয়েছেন তার সব বদলীই দূর্নীতির দায়ে করা হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৬ সালের নির্বাচনকালীন ৭৫টি বিদ্যালয় হতে ক্ষুদ্র মেরামতের কৌশলে প্রধান শিক্ষকদের নিকট হইতে প্রতি স্কুলে দশ হাজার টাকা করে নিয়েছে। এমন কি সে আমার নিকট হইতে ও দশ হাজার টাকা নিয়েছেন। এবং শিক্ষক কর্মচারীদের শ্রান্তি বিনোদনের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্বসাধ করেছে। নৈশপ্রহরী নবায়নের নামে ২০২৬ সালে ১৪৯টি স্কুলের নৈশপ্রহরীদের নিকট হইতে প্রতিজনে দশ হাজার টাকা করে কৌশলে নিয়ে যান। এমনকি গোদামে পরে থাকা বই ২ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে আত্মসাধ করেন। ১০/১৫ জন শিক্ষককে মৌখিক ডেপুটেসন দিয়ে প্রতি জনের কাছ থেকে ১লক্ষ টাকা করে নিয়েছে, যাহা পত্র পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষান্তে ৪/৫ লক্ষ টাকা করে নিচ্ছেন। স্কুলের সীমানা প্রাচীরের ২/৩ লক্ষ টাকা করে নিচ্ছেন।
এতে মাধবপুর উপজেলায় যত স্থাপনা হয়েছে সবগুলোই অত্যান্ত নিম্নমানের হয়েছে। ১৪৯টি স্কুল হইতে প্রশ্নপত্র প্রনয়ন বাবদ প্রতি স্কুলে গড়ে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছেন বছরের পর বছর। শিক্ষকদের যাতায়ত ভাতা হইতে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্বসাৎ করেন।
মাধবপুর একটি মডেল উপজেলা হিসাবে সারা বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু উক্ত অফিসার শিক্ষকদের জিম্মি করে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে পেলেছেন। উনাকে শিক্ষকদের বেতন বিবরণী উঠাতেও দুইশত টাকা করে দিতে হয়।
প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে, উক্ত অফিসার শিক্ষকদের নিকট হইতে কৌশলে হাতে হাতে টাকা নেয়।
দ.ক/সিআর