
মোঃ আমীর হোসেন সোহাগ: ১৬ ই জুন ২০২৬ ইংরেজি তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬।সিলেট সদর জিন্দা বাজার অবস্থিত দুর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রিতম পাল রিক উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি ও গল্পবলা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে।
জাতীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি ও গল্প বলা এই দুইটি বিষয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। তার এ অর্জনে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ আনন্দিত ও গর্বিত। তার এ অর্জনের পিছনে তার শিক্ষকগণের পাশাপাশি মায়ের অবদান ছিল আকাশসম চেষ্টা, সাহস ও অনুপ্রেরণা।
জন্মের কিছুদিন পর বাবা মারা যাওয়ায় তার বাবা ও মায়ের দায়িত্বে ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা মা জবা পাল। অল্প বয়সে স্বামী হারানোর পরেও সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে বিন্দুমাত্র ভয় বা পিছপা হন নি।বড় মেয়ে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। সারাদিন স্কুলের দায়িত্ব পালন করে সন্তানদের সময় দিতে কখনো ক্লান্ত হননি মা জবা পাল। লেখাপড়ার পাশাপাশি ২ জন সন্তানকে নাচ,গান, কবিতা আবৃত্তি, খেলাধুলা কোন দিকে ছিল না অবহেলা। উদ্দেশ্য ছিল ছেলে মেয়ে তাদের মেধা ও প্রতিভা দিয়ে তার মায়ের মুখ উজ্জ্বল করে স্বামী হারানোর ব্যথা ভুলে যাবে। আজ সত্যি সে আনন্দিত ও গর্বিত।
এ বিষয়ে জবা পালের সাথে কথা বলে তার অনুভূতি জানতে চাইলে আনন্দে কেঁদে ফেলে এবং অশ্রুসিক্ত চোখে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।এ প্রসঙ্গে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া রিতম পাল রিকের সাথে কথা বললে সে আনন্দে মা’কে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলতে থাকে আমার এ অর্জন আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ক্লানিহীন চেষ্টার ফসল। রিতম পাল রিক তার স্কুলের শিক্ষকগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে। তার বড় বোন জয়িতা পাল শ্রেয়া তার এ বিশাল অর্জনে খুব খুশী এবং তার মা বিরামহীন পরিশ্রম করে সময় দেওয়ার জন্য মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
তার এ অর্জন শুধু রিতম পাল রিক এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ অর্জন স্কুলের,যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছে তাদের, সিলেট বিভাগের সর্বোপরি বাংলাদেশের। তার এ অর্জন এগিয়ে যাক বাংলাদেশ পেরিয়ে বহির্বিশ্বে সেটাই প্রত্যাশা সকলের।
দ.ক.সিআর.২৬