
মিয়া সুলেমান: ভালোবাসা এবং ঘৃণা—দুটোই মানুষকে আবদ্ধ রাখে। সাহিত্য ও বিশ্বকথায় দেখা যায়, যে ব্যক্তি এই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সে শেষ পর্যন্ত জয়ী।
একই ব্যক্তিকে ভালোবাসা বা ঘৃণা—উভয়ই তারই জয়। ভালোবাসা যেমন গভীর আকর্ষণ তৈরি করে, ঘৃণাও শক্তিশালী আবেগের মাধ্যমে মানুষকে আবদ্ধ রাখে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের সম্পর্কের জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন—যাকে ভালোবাসা, তার কাছে সমর্পণ; যাকে ঘৃণা, তার বিরুদ্ধেও আবদ্ধ। উভয় ক্ষেত্রেই মন সেই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
শরৎচন্দ্রের “দেবদাস”-এ দেবদাস ও পার্বতীর সম্পর্ক ভালোবাসা থেকে শুরু হলেও অভিমান ও বেদনায় রূপ নেয়। ভালোবাসা-ঘৃণার মিশ্র আবেগই তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করেছে।
শেক্সপিয়ারের “ওথেলো”-য়ও দেখা যায়, ভালোবাসা যখন সন্দেহে পরিণত হয়, তা ভয়াবহ ঘৃণায় রূপ নেয়। ঘৃণাও ভালোবাসার বিকৃত রূপ এবং উভয় ক্ষেত্রেই সেই ব্যক্তিই চিন্তা-চেতনার কেন্দ্রবিন্দু।
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায়ও প্রেম-বিদ্বেষের মিলন লক্ষ্য করা যায়। বিদ্রোহের মধ্যেও প্রেমের স্পন্দন থাকে, অর্থাৎ ঘৃণা বা বিদ্রোহও কখনো ভালোবাসার অন্য রূপ।
সারসংক্ষেপে বলা যায়—ভালোবাসা বা ঘৃণা দুটোই মানুষকে বেঁধে রাখে। প্রকৃত মুক্তি আসে উদাসীনতায়; যে একেবারে ভুলে যায়, সে-ই সত্যিকারের মুক্ত।
সুতরাং, ভালোবাসা বা ঘৃণায় যে হৃদয়ে স্থান নেয়, সে-ই জয়ী। যে ভুলে যায়, সে প্রকৃতভাবে পরাজিত।
দ.ক.সিআর.২৬