
মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার এবং ভুয়া পদবি ব্যবহারের অভিযোগে হবিগঞ্জের গণস্বাস্থ্য হোমিও হলের কথিত ক্যানসার গবেষক সারোওয়ার আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ কার্যালয়ে অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে এ জরিমানা করেন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর কেফায়াত উল্লাহর বোনের জামাই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। একপর্যায়ে সারোওয়ার আলমের বিজ্ঞাপন দেখে তার কাছে রোগীকে নিয়ে যান। এ সময় সারোওয়ার আলম বিভিন্ন ওষুধ দেন এবং চিকিৎসার নামে অর্ধলক্ষাধিক টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে চিকিৎসার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
পরে কেফায়াত উল্লাহ জানতে পারেন, সারোওয়ার আলম ক্যানসার গবেষকসহ বিভিন্ন পদবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পদবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সারোওয়ার আলমের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার ক্যানসার গবেষণা ও অধ্যক্ষ পদবি ব্যবহারের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়।
জবাবে আইনজীবী জানান, সারোওয়ার আলম হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ওপর ২১ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং বর্তমানে এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কিছুদিন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুনানি শেষে ভোক্তার সঙ্গে ভুয়া পদবি ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে ভবিষ্যতে মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ।
দ.ক.সিআর