
সাবেক এক ক্ষমতাধর সংসদ সদস্যের আশীর্বাদধন্য ও ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়ানো হাফিজুর রহমান অনিক (২৭) এখন বাহুবলের মিরপুর এলাকার নতুন আতঙ্ক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্টের পর কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলেও, বর্তমানে ‘সমন্বয়ক’ ছদ্মবেশ ধরে তিনি প্রকাশ্যে রূপ পরিবর্তন করে চালাচ্ছেন মাদক ও চোরাচালানের বিশাল নেটওয়ার্ক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের মাহমুদাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও বানিয়াচংয়ের সন্তান অনিক বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সরকারি বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন। জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও পলাতক এমপি আবু জাহিরের সাথে গভীর সখ্যতা ছিল তার। সুনির্দিষ্ট পদ-পদবি না থাকলেও এই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হবিগঞ্জ শহরসহ মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও বাহুবলে নিজস্ব মাদক চক্র গড়ে তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনিক কৌশল বদলে নতুন রূপ নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সাথে পুরনো সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এবং এক সমন্বয়কের ভুয়া পরিচয় দিয়ে মিরপুর এলাকায় ডেরা জেনেন। বর্তমানে তিনি বাহুবলের মিরপুরে এক কথিত এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকেই পুরো মাদক সাম্রাজ্য ও চোরাচালান পরিচালনা করছেন। স্থানীয় ও বহিরাগত চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সেবীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে ওই ডেরায়।
বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জ থানায় সাবেক এই ছাত্রলীগ ক্যাডারের অবাধ আনাগোনা প্রত্যক্ষ দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসররা আত্মগোপনে থাকলেও অনিকের এমন প্রকাশ্য বিচরণ ও প্রভাব বিস্তার সচেতন মহলকে বাকরুদ্ধ করেছে।
এদিকে, মিরপুর এলাকায় অনিকের অবস্থান জোরদার হওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে টিউবওয়েলের মাথা ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা। সাধারণ মানুষের ধারণা, অনিকের গড়ে তোলা মাদকসেবী সিন্ডিকেটের কারণেই এসব চুরি সংঘটিত হচ্ছে।
একজন চিহ্নিত ছাত্রলীগ ক্যাডার ও মাদক কারবারি কীভাবে সরকার পতনের পরও ‘সমন্বয়ক’ সেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা না করে অপরাধ সামাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে—এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাটিকে অপরাধমুক্ত করতে ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অনিকসহ তার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
দ.ক.২৬