
আল-আমিন সাঈফী : মাদক, জুয়া, চুরি, ইভটিজিং ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শায়েস্তাগঞ্জের পাঁচগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। সভায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, সামাজিক প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) পাঁচগ্রাম ঐক্য পরিষদ যুব সমাজের উদ্যোগে চরনুর আহমদ নূরানী জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
পাঁচগ্রাম ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান জিতুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম, হবিগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর মোঃ নাজিম উদ্দিন এবং পাঁচগ্রাম ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হাই।
মিজানুর রহমান শাকিম ও মোঃ ফাহিন হোসেনের যৌথ পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন শাহ মুহাম্মদ ইমরান, মাওলানা নাসির উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর নওয়াব আলী, মোহাম্মদ মামুন মিয়া ও মোহাম্মদ জয় মিয়া। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আল-আমিন সাঈফী ও মোঃ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি যুবসমাজকে অপরাধবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মাদক, জুয়া, চুরি, ইভটিজিং ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব অপরাধে জড়িত থাকলে তার পরিচয় গোপন রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া এবং অপরাধ সংঘটিত হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিবেচনা করা হবে না। মাদক সেবন, বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং হাতেনাতে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক দণ্ড প্রদান করা হবে।
সভায় পাঁচ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দ.ক/এএএস