
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে মেধা কোটায় বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন, আর বাকি শিক্ষার্থীরা সাধারণ কোটায় বৃত্তি লাভ করেছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুইভাবে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যভান্ডার (আইপিইএমআইএস) পোর্টালে প্রবেশ করে রোল নম্বরের মাধ্যমে ফল দেখা যাবে। এছাড়া নির্ধারিত নিয়মে ১৬২২২ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। জেলা ও বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষা দেশের অধিকাংশ জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈরী পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে ফল প্রকাশের আগেই নয়টি জেলার বৃত্তির ফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ফল যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশের ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সরকার প্রতিবছর মেধা ও সাধারণ—এই দুই শ্রেণিতে বৃত্তি প্রদান করে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও প্রতিযোগিতামুখী হতে উৎসাহ জোগায়।
দ.ক.সিআর