খ,ম, জায়েদ হোসেন: সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহান পেশা। পক্ষান্তরে বিপদজ্জনক পেশাও বটে। সাধারণত অন্যপেশায় কর্ম করলে কোনো ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নেই। সাংবাদিক-ই সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ হয়ে হামলা -মামলা, হয়রানি সহ লাঞ্ছিত হচ্ছে আরেক সাংবাদিক, যা অন্য কোন পেশায় আছে কি না বোধগম্য নই।
দেশীয় বিচারিক কার্যালয় আদালত বলেন,যে সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভের অর্থাৎ সাংবাদিকরা যদি সজাগ থাকে, সাংবাদিকরা যদি সঠিকভাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে দেশের অন্য তিনটি স্তম্ভ এমনিতেই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশাটি যেন কলঙ্কিত হয়ে হারাতে বসছে মানসম্মান। এর জন্য আবার দায়ীও কিন্তু কিছু অসাধু সাংবাদিক। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা অন্য কোন প্রভাবে প্রভাবিহ হয়ে গায়ের জোরে হউক, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে-ই হউক সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছে কিছু সাংবাদিক।
সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ হচ্ছে সাংবাদিক। কিন্তু মুলত সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ কি সাংবাদিক? আবার সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ কি সাংবাদিকদেরই হওয়া উচিত?
মুরব্বিদের একটা কথা বলতে শুনেছি যে,ঘরের ইঁদুর বান কেটে দিলে নাকি বান দিয়ে কুলানো যায়না। যার ফলশ্রুতিতে ঘরের শত্রুর কারণেই কিন্তু পরের শত্রুরা হচ্ছে আরো বেশি শক্তিশালী আর সাংবাদিকরা হচ্ছে হয়রানি সহ নানান ধরনের অপদস্ত। সাধারনত সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা বিশাল, পক্ষান্তরে প্রাপ্তির জায়গাটাতে একদম নিম্ন মানে শুণ্যের কোটায় ।
দেশের কর্তা ব্যক্তিরাই বলেন যে, সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য পত্রিকার পাতায় তুলে ধরুন। অথচ দেখুন হটাৎ যদি তাদের কোন অপকর্ম, কুকর্ম তুলে ধরা হয় তখন তারাই বলে বসেন যে, সাংবাদিকরা আমার সম্মানে আঘাত করছে। আর হুমকি-ধামকিতো সাংবাদিকদের জন্য এখন ডালভাতে পরিণত হয়েছে।
সালিস কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এ যাবতকাল পর্যন্ত অসংখ্য সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে সংকটের সম্মখীন হয়েছে। আর এরূপ কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীন ভাবে কলম চালানোর জন্য অশনিসংকেত। আর এমন অনেক উদাহরণ আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কালবেলার মোজো রিপোর্টার রুমেল আহমেদের ওপর হামলা হয়েছে। জেলার কয়েকজন সাংবাদিকের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। বেধড়ক মারধর ও কিল-ঘুষিতে আহত রুমেল হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমার প্রাণের পত্রিকা দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে আরেক নামসর্বস্ব সাংবাদিক চার জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে, যা সারাদেশে অফলাইনে বা অনলাইনে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
দায়বদ্ধতার খাতিরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, হয়রানি সহ শারীরিক নির্যাতনের মত ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাংবাদিকের আসল প্রতিপক্ষ হওয়া উচিত অন্যায়, দুর্নীতি এবং অসত্য; অন্য কোনো সহকর্মী বা সাংবাদিক নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে হলে ‘সাংবাদিক বনাম সাংবাদিক’ এই আত্মঘাতী অবস্থান থেকে সরে এসে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
দ.ক.সিআর.২৬