
➖
সম্পাদকীয়—
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী ও সাংবাদিকদের নিয়ে যেভাবে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অশ্লীল মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। সামান্য একটি ঘটনাকেও অনেক বড় করে উপস্থাপন করা, ভুয়া তথ্য প্রচার করা এবং ফেক আইডির মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো—এগুলো এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু ব্যক্তি এমনকি কিছু তথাকথিত সাংবাদিকও একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এতে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও পেশাগত নৈতিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একটি জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বড় একটি অংশই (প্রায় ৯৫%) ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালানো হয়, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মচারী এই পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তারা অপেশাদার বা অসচেতন তথাকথিত সাংবাদিকদের সামান্য টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করে প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এতে শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের দুর্নীতির চিত্রই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যারা না বুঝে এসব অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে, তাদের অনেককেই শেষ পর্যন্ত আইনের মুখোমুখি হতে হয়।
তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার—সত্য যাচাই ছাড়া কিছু প্রচার না করা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সমাজের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
আসাদ ঠাকুর
কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
দ.ক.২৬