1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদ কার্ডের আবেগ এখন স্মৃতিতে, দখল নিয়েছে ডিজিটাল শুভেচ্ছা লাখাইয়ে পাগলীর কোলে ৪ সন্তান, দায় নেয়নি কেউ চুনারুঘাটে সিএনজি শ্রমিকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ঘুরে এলাম মিরাশি: যে গ্রামের বুকে ইতিহাসের বসতি- রুবেল মাজহার চুনারুঘাটে দুঃস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অনুদান বিতরণ আহম্মদাবাদে দারুল ক্বিরাতের পুরস্কার বিতরণী ও বিদায় অনুষ্ঠান ঈদ: সংযমের সাধনা শেষে আনন্দ, মানবতা ও ভালোবাসার উৎসব- কালনেত্র দেশ ও প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক হৃদয় চুনারুঘাটে তীব্র যানজট; ভোগান্তিতে উপজেলাবাসী- কালনেত্র মানবিক কাজে এগিয়ে সিমি কিবরিয়া, বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র

ঘুরে এলাম মিরাশি: যে গ্রামের বুকে ইতিহাসের বসতি- রুবেল মাজহার

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
মিরাশি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

 

মো: মাজহারুল ইসলাম: আজ ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার। বাসা থেকে বাইক নিয়ে বের হতেই রাস্তায় পেলাম সিদ্ধার্থ আচার্য্যকে। বললাম চল মিরাশি। যে গ্রাম স্বর্ণপ্রসবিনী, যেখানে ছিল ১৮টি জমিদার পরিবারের বাস।

চুনারুঘাট শহর পেরিয়ে দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছুঁয়ে, খোয়াই নদী পার হয়ে পাকুড়িয়া ও পীরেরগাঁওয়ের বুক চিরে আইতনের পাশ দিয়ে সবুজ সমুদ্রের প্রবাহে প্রথমেই থামলাম হাজীপুর তালুকদার বাড়ির সামনে। এরপর যাত্রা বিরতি মিরাশি নয়াবাজারে। বাজারটি নতুন হলেও বেশ জমজমাট। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্তের বাড়ি হয়ে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী প্রমোদ রঞ্জন দত্তের বাংলোতে (কথিত, যেখানে তিনি মাত্র দু’দিন থেকে ছিলেন) কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। আমাদের পাশ দিয়ে এই গ্রামেরই একটি বিশাল গরু মিনি ট্রাকে করে নালমুখ বাজারে যাচ্ছে। গরুটি ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সিদ্ধার্থ আমার পরিচিত সকলের বাড়ি দেখাচ্ছে একেএকে।

ঐতিহ্যের ধারক মিরাশি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ কাটালাম। চুনারুঘাটের প্রথম উচ্চ বিদ্যালয় এটি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। খেলার মাঠ ও পুকুর স্কুলটির প্রাণ। ড. ক্ষিতীশ চন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজ্ঞানাগার রয়েছে এতে। এ স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী যেমন গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস, ইঞ্জিনিয়ার ড. ক্ষিতিশ চন্দ্রনাথ, ইঞ্জিনিয়ার হাজি মতিন ও ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান স্বমহিমায় মহিমান্বিত। এছাড়াও অনেক কৃতি শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে দেশে বিদেশে নানান পেশায় নিয়োজিত আছেন। কিন্তু স্কুলটিকে লাগল নিস্প্রভ, মনে হচ্ছে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। স্কুল মাঠের পাশ দিয়ে নতুন গড়া ঢালাই রাস্তা ধরে ভগ্নহৃদয়ে টলতে টলতে গেলাম সিআর দত্ত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধে। এতে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা বিশেষ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ সুরত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ রমজান আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আব্দুল মান্নান। এর উদ্বোধক হিসেবে পাথরে নাম আছে সাবেক সংসদ সদস্য সায়েদুল হক সুমনের নাম। সৌধের নির্মাণ শৈলী দৃষ্টি নন্দন হলেও অযত্ন আর অবহেলায় এটি বিধ্বস্ত হওয়ার পথে। দোলনা, টয়লেটের দরজা ও সাবমারসিবল মটর সব খোয়া গেছে। প্রতিবেশীদের বললাম আপনারাতো এটির যত্ন নিতে পারেন। পাশের এক বাড়িতে শ্যামল ছায়ায় কিছুক্ষণ কাটিয়ে আবার পথে নামলাম।

মিরাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু এ স্কুলে নেই কোন সীমানা প্রাচীর। এক সময়ের শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকিত তীর্থ মিরাশি গ্রাম আজ মনে হচ্ছে মলিন ম্রিয়মাণ। তবে রাস্তার দু’পাশে সবজি চাষ দেখে আনন্দ চিত্তে শেষ আশ্রয়ে দীর্ঘক্ষন পাতাবাহারের ছায়ায় বসেছিলাম উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের বাড়ীর সামনে।
একটি গ্রাম যেন বিশ্বের বুকে একবিন্দু ইতিহাসের আখ্যান।

 

🔘ক্যামেরায় মিরাশি ইতিহাসের খন্ডচিত্র

মিরাশি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

 

ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের স্মৃতধন্য বাড়ি

 

আসাম সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী প্রমোদ রঞ্জন দত্তের বাংলোঘর। যিনি সিলেটের ক্বীন ব্রিজ সহ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের অনেক উন্নয়নের সারথী ছিলেন।

 

একটি হারিয়ে যাওয় ধনী কৃষকে বাড়ি।

 

মিরাশি গ্রামের এক মিরাশদারের বাড়ীর সামনে সবুজ আঙ্গিনায় ।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট