1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আমার দেখা চুনারুঘাট উপজেলার ক্রিকেট : মোস্তফা মোরশেদ শুধু ‘ব্র্যান্ড’ লেখকেই ভরসা—তাহলে নতুন কলামিস্ট জন্ম নেবে কোথায়? চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে রুমনকে দেখতে চান স্থানীয় জনগন অস্তিত্বসংকটে হবিগঞ্জের অসংখ্য খাল-বিল ও নদী চুনারুঘাট বান্নি পার্ক এন্ড রেষ্টুরেন্টে ছাত্র নেতার হামলা হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন  তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস আজ: বিএনপিনেত্রী শাম্মীকে এমপি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে হবিগঞ্জ জেলার অবস্থা পর্যালোচনা মানুষের সেবা করাই আমাদের মুল উদ্দেশ্য : শিল্পপতি সৈয়দ ইশতিয়াক

শুধু ‘ব্র্যান্ড’ লেখকেই ভরসা—তাহলে নতুন কলামিস্ট জন্ম নেবে কোথায়?

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

 

মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ : ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি এক ধরনের অদ্ভুত টান অনুভব করতাম। লেখাগুলো ভালো না মন্দ—সেটা হয়তো পাঠকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে লিখে যাওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা সবসময় আমাকে তাড়িত করেছে। বন্ধু–স্বজনদের কেউ কেউ যখন প্রশংসা করত, তখন মনে হতো—হয়তো আমার লেখালেখির পথচলা বৃথা নয়। সেই উৎসাহই ধীরে ধীরে আমাকে সাংবাদিকতার জগতে নিয়ে আসে।

সাংবাদিকতা শুরু করার পর প্রথম দিকে যখন কোনো পত্রিকায় আমার একটি সংবাদ প্রকাশিত হতো, তখন যে আনন্দ অনুভব করতাম তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মনে হতো, নিজের ভাবনা বা তথ্য সমাজের সামনে তুলে ধরতে পেরেছি—এটাই বড় প্রাপ্তি। সেখান থেকেই শুরু হয় অবিরাম লেখালেখি। কখনো স্হানীয়ভাবে ঘটা সংবাদ,কখনও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, কখনও পরিবেশ বিষয়ক সংবাদ, কখনও আবার ফিল্যান্স লেখা বা মুক্তমত—বিভিন্ন ধারায় পারিশ্রমিক বিহীন লিখে চলেছি।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে লেখালেখির অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—সংবাদপত্রে নতুন লেখকদের জায়গা পাওয়া সহজ নয়।

অনেক সময় দেখা যায়, মুক্তমত বা উপসম্পাদকীয় লেখা পাঠানোর পর কোনো কোনো পত্রিকায় তা স্থান পায়, আবার অনেক ক্ষেত্রেই কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। খোঁজ নিয়ে বা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শুনে যা বোঝা যায়, তা হলো—পত্রিকাগুলো সাধারণত প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত লেখকদের লেখা অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকাশ করে।
এটা একদিকে স্বাভাবিকও বটে। কারণ, নামকরা লেখক, বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, প্রবন্ধকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লেখা পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং পত্রিকার মর্যাদাও বাড়ায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই প্রতিষ্ঠিত লেখকেরাও তো একদিন নতুন ছিলেন। তারা তো জন্মগতভাবে কলামিস্ট হয়ে ওঠেননি। নিয়মিত লেখার সুযোগ, প্রকাশের ক্ষেত্র এবং পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয়ই একজন লেখককে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে।

একজন নতুন লেখক যখন তার লেখা কোনো পত্রিকার পাতায় দেখতে পান, তখন তার ভেতরে লেখার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সে আরও ভালোভাবে গবেষণা করতে চায়, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা বিশ্লেষণ করতে চায় এবং দায়িত্বশীলভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে শেখে। অর্থাৎ, একটি লেখা প্রকাশের সুযোগই একজন সম্ভাবনাময় লেখকের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখানেই সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

গণমাধ্যম শুধু তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের চিন্তা ও মতামতের ক্ষেত্রও। সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের আয়না—যেখানে দেশের মানুষের ভাবনা, সমস্যা ও সম্ভাবনা প্রতিফলিত হয়। সেই আয়নায় যদি কেবল নির্দিষ্ট কিছু পরিচিত মুখের লেখাই বারবার প্রতিফলিত হয়, তাহলে সমাজের বহুমাত্রিক চিন্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মফস্বল শহর কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে গভীর চিন্তাশক্তি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং সমাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা। কিন্তু তারা পরিচিত লেখক নন বলে অনেক সময় তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান না। ফলে অনেক মূল্যবান চিন্তা ও অভিজ্ঞতা অপ্রকাশিতই থেকে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে—মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার কি কেবল প্রতিষ্ঠিতদের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকবে? অবশ্যই নয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক নাগরিকেরই মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। গণমাধ্যম যদি সেই মতামত প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, তাহলে সমাজের চিন্তার পরিধি আরও সমৃদ্ধ হবে। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক সংবাদমাধ্যম নিজেদের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বলে দাবি করে। প্রচার–প্রচারণায় নানা আকর্ষণীয় শব্দ ও স্লোগান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—নিরপেক্ষতা কেবল কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হয়। নতুন লেখকদের জন্য কিছু জায়গা তৈরি করা, তরুণ চিন্তাবিদদের সুযোগ দেওয়া এবং তৃণমূলের কণ্ঠকে গুরুত্ব দেওয়া—এসবই প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্বের অংশ।

অবশ্যই পত্রিকার সম্পাদকদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। প্রতিদিন সীমিত জায়গার মধ্যে অসংখ্য লেখা বাছাই করতে হয়। তাই সব লেখা প্রকাশ করা সম্ভব নয়—এটা বাস্তবতা। তবে যদি নীতিগতভাবে নতুন লেখকদের জন্য নির্দিষ্ট একটি পরিসর রাখা যায়, তাহলে ধীরে ধীরে নতুন কলামিস্ট ও বিশ্লেষক তৈরি হতে পারে। কারণ, একজন কলামিস্ট হঠাৎ করে তৈরি হন না। তিনি তৈরি হন অভিজ্ঞতা, অনুশীলন এবং প্রকাশের সুযোগের মধ্য দিয়ে। যদি নতুনদের সেই সুযোগই না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের চিন্তাবিদ বা বিশ্লেষক তৈরি হবে কীভাবে?

সময়ের দাবি হলো—সংবাদপত্রগুলো নতুন লেখকদের প্রতি আরও সহনশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকা পালন করবে। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি নতুনদেরও জায়গা করে দিলে গণমাধ্যমের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে সমাজ পাবে নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কলামিস্টদের।

নতুনকে জায়গা দেওয়া মানে পুরোনোকে বাদ দেওয়া নয়। বরং এটি একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া। সেই পরিবেশ গড়ে উঠলেই সংবাদপত্র সত্যিকার অর্থে সমাজের আয়না হয়ে উঠতে পারবে। আর তখনই হয়তো আমরা বলতে পারব—এই দেশের গণমাধ্যম কেবল খবর প্রকাশ করে না, বরং নতুন চিন্তা ও নতুন লেখকের জন্ম দেয়।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট