
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী কেবল একটি নাম নয়—তিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও প্রতিবাদের প্রতীক। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্দ্বিধায় তার কাছে নিজেদের কথা তুলে ধরতে পারেন। কেউ তাকে ‘হুজুর’, কেউ ‘সাহেব’, কেউ ‘ভাই’ কিংবা শুধু ‘তাহেরী’ নামে ডাকেন—তার সঙ্গে মিশতে কোনো পরিচয়ের দেয়াল নেই।
তরুণ থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের কাছেই তিনি সমান গ্রহণযোগ্য। তার নেতৃত্বের মূল শক্তি তৃণমূলের সাধারণ মানুষ, আর সেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই তাকে এগিয়ে নিচ্ছে। তার কাছে যেতে কোনো রাজনৈতিক অনুমতি বা প্রভাবের প্রয়োজন হয় না—এটাই তাকে আলাদা করে তোলে।
মানবতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ওলী-আউলিয়াদের আদর্শে অনুপ্রাণিত তার বক্তব্য ও কর্মধারা তাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। বৃহত্তর সুন্নী জোটের মনোনীত প্রার্থী হলেও বাস্তবে তিনি নিজেকে উপস্থাপন করছেন সব দলের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে। এ কারণেই অনেকেই তাকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘নেতৃত্ব গড়ার কারিগর’ হিসেবে।
যেখানেই জুলুম, নিপীড়ন কিংবা অবিচারের ঘটনা ঘটে, দলীয় পরিচয় না দেখে সেখানেই দাঁড়ান মুফতি তাহেরী। তার বক্তব্য ও ওয়াজে বারবার উঠে আসে মানবতা, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের কথা। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি তিনি সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। তার কথা ও কাজে সামঞ্জস্য থাকায় মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
তার নেতৃত্বে যেমন আছে প্রতিবাদী কণ্ঠ, তেমনি আছে শালীনতা ও সংযম। তিনি কখনোই তার সমর্থক বা কর্মীদের উসকানি দেন না; শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগত আন্দোলনই তার রাজনৈতিক দর্শন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোই তার নেতৃত্বের বাস্তব প্রমাণ দিচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের হুরারকুল গ্রামে তার কর্মী মুহাম্মদ নজরুল হামলার শিকার হলে তিনি মধ্যরাতে ভুক্তভোগীর বাড়ি ও থানায় উপস্থিত হন।
সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আগে বিচার, তারপর নির্বাচন।” একইভাবে মাধবপুরে তার কর্মী হাফেজ মামুন শাহ ও শিমুল হামলা ও নিপীড়নের শিকার হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে বিপদের সময় ছুটে যাওয়া, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং মানবতার কথা বলা—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নেতৃত্বকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অনেকের মতে, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তিনি সত্যিই হয়ে উঠতে পারেন নেতৃত্ব গড়ার এক অনন্য কারিগর।
দ.ক.সিআর.২৬