
ত্রীপুরারি দেবনাথ এর ফেসবুক আইডির পোস্টটি হুবহু তোলো ধরা হলো—
❝এখন বেলা ১২টা। কিছুক্ষণ আগে একজন শিক্ষকের ফেসবুক আইডিতে দেখলাম, প্রায় এক ঘণ্টা আগে (বেলা ১১টার দিকে) একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ৩০টি বাক্যের সেই লেখার সঙ্গে গুগল থেকে নেওয়া একটি ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। এমন একটি পোস্ট তৈরি করতে যে সময়, মনোযোগ ও শ্রমের প্রয়োজন হয়, তা সহজেই অনুমেয়।
প্রশ্নটি ব্যক্তি নয়, দায়িত্ববোধকে ঘিরে। বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে একজন শিক্ষকের সর্বোচ্চ মনোযোগ কি শ্রেণিকক্ষে থাকা উচিত নয়? সেই সময়ে যদি দীর্ঘ প্রতিবাদমূলক বা আবেগপ্রবণ লেখা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে হয়, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় কতটা সঠিকভাবে কাজে লাগছে—এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও কর্মনিষ্ঠারও আদর্শ। তাই ক্লাসে প্রবেশের আগে কীভাবে পাঠ উপস্থাপন করবেন, কোন কৌশলে শিশুদের শেখাবেন এবং কীভাবে তাদের শেখার আগ্রহ বাড়াবেন—এসব বিষয়ই হওয়া উচিত প্রধান প্রস্তুতি।
আমরা প্রায়ই দেখি, অনেক শিক্ষার্থী এখনও প্রত্যাশিত রিডিং দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এই বাস্তবতায় বিদ্যালয়ের প্রতিটি মিনিট শিক্ষার্থীদের শেখার পেছনে ব্যয় হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান ও সম্মানিত পেশা। সেই পেশার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বিদ্যালয়ের সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কারণ শিক্ষার্থীদের শেখার অধিকারই হওয়া উচিত আমাদের সবার প্রথম অগ্রাধিকার।❞
লেখক: অনুসন্ধানি সাংবাদিক, মাধবপুর, হবিগঞ্জ।
দ.ক.২৬