
ভারত জুড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন দিল্লির যন্তর মন্তরে সংগঠনটির সদস্যদের সমাবেশ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলনের রূপ নেয়। পরে কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতার অংশগ্রহণ এবং জনপ্রিয় তারকাদের সমর্থনে আন্দোলনটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক চরিত্র লাভ করে। অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার হয়তো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল তাঁর সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ঠিক এই সময় মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে চলমান আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ঘরে ফিরে যায়। অনেকের মতে, ঘটনাটি ভারতের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তবে তার আগে দেখা দরকার, কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার।
ছাত্র-জনতার দাবির মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তিন দফা আলোচনায় বসে এবং তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেয়। সরকার শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে বিষয়টি এতটা সহজ ছিল না। মধ্যরাত ১২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিন মিনিটের ভিডিও বার্তাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। সরকার অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এই সময়টি নির্বাচন করে। কারণ, ওই সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের তৃতীয় দফা আলোচনা চলছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরাসরি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অঙ্গীকার এবং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। এর আগেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছিলেন। পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনকারীদের কাছে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ঠিক এই পর্যায়ে আন্দোলন আরও বৃহত্তর সরকারবিরোধী রূপ নেওয়ার আগেই মোদীর ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ স্পষ্ট করে যে সরকার সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মোদীর ভিডিও বার্তারও দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, সরকার যে সমস্যাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে, সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকে আলোচনার পথে ফিরিয়ে এনে সেটিকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা। যদিও আন্দোলনকারীরা তখন শক্তিশালী অবস্থানে ছিল এবং আরও দাবি আদায়ে চাপ অব্যাহত রাখার সুযোগ তাদের সামনে ছিল।
আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৬ সালের মে মাসে। প্রথমে এটি ছিল একটি ব্যঙ্গধর্মী সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বলে অবমাননাকরভাবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিবাদে অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ, পরে কোটি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হন। মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে আন্দোলনটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা, যুব বেকারত্ব হ্রাস, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিচার এবং তরুণদের প্রতি রাজনৈতিক অবহেলার অবসান। দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেকে প্রতীকীভাবে তেলাপোকার পোশাক পরে প্রতিবাদ জানান।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের কিছু দাবিও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যুতে পরিণত হয়। আন্দোলন জোরদার হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে শুরু হয়নি। বরং একটি মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারণা থেকে বাস্তব রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপান্তরিত হয়। তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই ছিল এর প্রধান চালিকাশক্তি। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বোচ্চ ব্যবহার এই আন্দোলনকে ব্যতিক্রমী করে তোলে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে তরুণদের প্রকৃত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করেন এটি মূলধারার রাজনীতির প্রতি হতাশার প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ আন্দোলনটিকে বেকারত্ব ও শিক্ষা সংকটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
অনেক আন্দোলনের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সূচনা হয় একটি নির্দিষ্ট দাবি বা ইস্যুকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সরকার যদি সেই দাবি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয় অথবা দমন-পীড়ন, সংঘর্ষ কিংবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়, তাহলে আন্দোলনের লক্ষ্য ধীরে ধীরে সরকার পরিবর্তনের দাবিতেও রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও এ ধরনের আন্দোলনের নজির রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন নানা কারণে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বা অহিংস ছিল না। একই সঙ্গে অনেকে মনে করেন, আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল কোটা সংস্কার ছিল না। কারণ দাবি আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার পরও আন্দোলন থামেনি; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে একপর্যায়ে সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নেয়। তবে এ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ভারতের এই আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি এবং যুব বেকারত্ব। শ্রীলঙ্কায় মূল সংকট ছিল অর্থনৈতিক, নেপালে ছিল রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের দ্বন্দ্ব, পাকিস্তানে নির্বাচনী বৈধতা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্ন, আর বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে, যা পরে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়। ফলে দেখা যায়, আন্দোলনগুলোর কৌশলগত ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মিল থাকলেও তাদের মূল ইস্যু, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিন্ন নয়। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক জিন শার্পের অহিংস আন্দোলন-সংক্রান্ত তত্ত্বের কয়েকটি সাধারণ ধাপ উল্লেখ করা যেতে পারে।
১. সীমিত কিন্তু জনসমর্থিত একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূচনা।
২. ক্রমান্বয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সমর্থন অর্জন।
৩. অহিংস কর্মসূচির বিস্তার, যেমন মিছিল, বয়কট, ধর্মঘট, অসহযোগ ও প্রতীকী প্রতিবাদ।
৪. রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎসের ওপর চাপ সৃষ্টি, বিশেষত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়লে।
৫. রাজনৈতিক ফলাফল, যেখানে সরকার নীতি পরিবর্তন, নেতৃত্বের পরিবর্তন কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার পরিবর্তনের পথেও যেতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, জিন শার্প কোথাও বলেননি যে প্রতিটি অহিংস আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তাঁর তত্ত্বে আন্দোলনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় আন্দোলনকারীদের দাবির ভিত্তিতে। অনেক আন্দোলন কেবল একটি আইন সংশোধন, নির্বাচন, দুর্নীতি দমন বা নির্দিষ্ট নীতির পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বিদ্যমান সরকার থাকলে তাদের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তখন সরকার পরিবর্তনের দাবিও সামনে আসে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের আলোচ্য আন্দোলনের মধ্যে একটি কাঠামোগত মিল রয়েছে। সবগুলোই একটি নির্দিষ্ট ইস্যু থেকে শুরু হয়ে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান, নেতৃত্ব, জনসমর্থন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় আন্দোলনের গতিপথ ও ফলাফলও ভিন্ন হতে পারে।
ককরোচ পার্টির আন্দোলনের একপর্যায়ে দেখা যায়, এর একটি অংশ শিক্ষা সংস্কার বা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনে আন্দোলনের একটি অংশ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক চরিত্র লাভ করে। এতে আন্দোলনের রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি অস্বাভাবিক নয়। বহু দেশে দেখা গেছে, একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন পরিস্থিতির পরিবর্তন, দমন-পীড়ন কিংবা রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে ধীরে ধীরে **regime-challenging movement**-এ রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনকে অনেকে সেই ধরনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে প্রতিটি আন্দোলনের গতি, প্রকৃতি ও পরিণতি স্বতন্ত্র।
এসব বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে মোদীর সর্বশেষ ভিডিও বার্তাটি আগের সংক্ষিপ্ত ঘোষণার তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। পরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গ, সরকারের ইতিবাচক আলোচনার উদ্যোগ এবং আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে বিবেচিত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসে।
রাজনৈতিকভাবে এই আন্দোলন মোদী সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটি ছিল অন্যতম শক্তিশালী যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন।
এ আন্দোলনের ফলে বিজেপির ভাবমূর্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারকে জনচাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, এমন ধারণা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এটি ছিল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে। যদি সরকার শিক্ষা সংস্কার, কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ক্ষতি সীমিত থাকবে। কিন্তু যুবসমাজের অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে বিরোধীরা এই আন্দোলনকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
আন্দোলনকারীরা একে কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সরকার শিক্ষা সংস্কার এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা দিলে ভবিষ্যতে নতুন করে আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ব্যঙ্গ, মিম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার। ডিজিটাল সংস্কৃতিনির্ভর এই প্রতিবাদ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং ভারতে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ধরনে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে তীব্র ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর এখানে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন সৃষ্টি হলে বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন বা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কলামিষ্ট
দ.ক.সিআর