
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চুনারুঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টায় চুনারুঘাট পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে চাউল বিতরণ করা হয়। শনিবার , ১৪ মার্চ সকাল ১০টা হতে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে বিতরণ করা হবে। এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে ১৫ তারিখ সোমবার, সকাল ১০টায় বিতরণ করা হবে।
আর এবিষয়ে চুনারুঘাট পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুল মান্নান রুমন আমাদের কালনেত্রকে জানান, চুনারুঘাটে ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এলাকার মানুষ এবার জানতে পারবে কোন ওয়ার্ডে কতটি কার্ড যাচ্ছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও জানাতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যত্যয় হলে তা কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির খাদ্যশস্য যেন সঠিকভাবে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এবার চুনারুঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে চাল পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন, যেসব পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং নিয়মিত খাদ্যসংকটে ভুগছে—তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিটাবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই এমন পরিবার, দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, মহিলা শ্রমিক বা ভিক্ষাবৃত্তির আয়ে চলা পরিবার, উপার্জনক্ষম পূর্ণবয়স্ক, পুরুষবিহীন অসচ্ছল পরিবার, স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয় এমন পরিবার, উপার্জনশীল ব্যক্তি নেই এমন পরিবার, স্বামী পরিত্যক্তা বা তালাকপ্রাপ্ত অসচ্ছল নারীর পরিবার, অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাবঞ্চিত পরিবার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য ও অর্থসংকটে পড়া পরিবার।
এছাড়া যেসব পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দুবেলা খাবার পায় না, সেসব পরিবারকেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
দ.ক.সিআর.২৬