
আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুড়িগ্রাম :
উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বইছে হাড়কাঁপানো শীত। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে আকাশ। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। দুপুর নাগাদও তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকায় জনজীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, জেলে ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই কেউ নদী পার হয়ে মাঠে যাচ্ছেন, কেউ আবার কাঁপা শরীরে নদীর জলে নেমে মাছ ধরছেন। কুয়াশায় ভেজা শরীর নিয়েই তারা সারাদিন শ্রম দিচ্ছেন সংসারের দায়ে।
বুড়িরহাট এলাকার কৃষক সোনাউল্লা চাচা সকালে জমিতে গমের চারা পরিচর্যা করছিলেন। কথা হলে তিনি বলেন,
“ভোরে মাঠে নামলে হাত-পা জমে যায়, কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলে না। শীতে জমিতে পানি জমে থাকে, কাদা পেরিয়ে কাজ করতে হয় — তবুও পেটের দায়ে নামতেই হয়।”
তার স্ত্রীও প্রতিদিন ভোরে কাজে যান। তিনি জানান,
“ভোরবেলা ঘর থেকে বের হলে কুয়াশায় কাপড় ভিজে যায়, কিন্তু ঘরে বসে থাকলে চুলায় ভাত চড়ে না। তাই কষ্ট হলেও মাঠে আসতে হয়।”
অন্যদিকে একই এলাকার জেলে আবু বক্কর ও লতিফকে দেখা গেছে নদীতে নৌকা বেয়ে মাছ ধরতে। তারা বলেন,
“নদীর পানি বরফের মতো ঠান্ডা, কিন্তু জাল না ফেললে সংসার চলে না। মাছ ধরা এখনই একমাত্র ভরসা।”
এদিকে সারাদিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের মাত্রা আরও বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষজন জড়ো হচ্ছে চায়ের দোকানে, কেউ আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখছে। শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো অনেক পরিবার কোনো সরকারি সহায়তা পায়নি। তারা দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছেন, “শীতটা এবার আগেভাগেই নেমে এসেছে। দিনভর কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জীবন যেন থমকে আছে।”
দ.ক.সিআর.২৫