
নাছিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে গোটা পৃথিবী যখন হাতের মুঠোয়,সে সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল গ্রাম নরহা আজও মোবাইল নেটওয়ার্কের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় সাড়ে নয় হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এ গ্রামে নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করেনি। ফলে শিক্ষার্থী, প্রবাসী পরিবার, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গ্রামটির চারপাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—পূর্বে হরিনবেড় ও শংকরাদহ, পশ্চিমে পূর্বভাগ ইউনিয়ন, দক্ষিণে তিতাস নদী ও উত্তরে বিশাল হাওর ও ফসলি জমি। এই গ্রামে রয়েছে দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন, ছয়টি জামে মসজিদ, দুইটি কওমি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি চক বাজার।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে থেকেও এই গ্রামের মানুষ মোবাইল সিগন্যাল না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং ও জরুরি যোগাযোগে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামটি পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই গ্রামের সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা এনামুল হক রানা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমাদের গ্রামের পাশের হরিনবেড়, শংকরাদহ, পূর্বভাগে টাওয়ার আছে, কিন্তু নরহায় নেই। এখানে দ্রুত একটি টাওয়ার স্থাপন করা জরুরি।”
স্থানীয় আইনজীবী মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, “কারেন্ট থাকলে ওয়াইফাই চালানো যায়, কিন্তু কারেন্ট গেলেই কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে না। এটা এখন শুধু অসুবিধা নয়, নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করছে।”এলাকার প্রবাসী পরিবারগুলোও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন। বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও বা ফোনে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নরহা গ্রামের তরুণ সমাজ জানিয়েছে, গ্রামে 3G বা 4G সিগন্যাল পাওয়া যায় না বললেই চলে। অনলাইন ক্লাস, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স কাজ সবকিছু ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদনও তৈরি করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এলাকাবাসী আশা করছেন, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের মতো অপারেটররা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে নরহা গ্রামে একটি নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করবে, যাতে গ্রামের মানুষ আধুনিক যোগাযোগের সুবিধা পেতে পারে।
দ.ক.সিআর.২৫