
ডেস্ক রিপোর্ট: বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মীর অনুরোধে অনেকেই ব্যাংক ঋণের জামিনদার (গ্যারান্টার) হতে রাজি হন। তবে বিষয়টি যতটা সাধারণ মনে হয়, এর আইনি ঝুঁকি কিন্তু ততটাই জটিল ও বিপজ্জনক।
ব্যারিস্টার তাসমিয়া আনজুম জানান, “কোনো ব্যক্তি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সময় যদি আপনাকে গ্যারান্টর হতে বলেন, তবে আগে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ঋণগ্রহীতা যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তার পাশাপাশি জামিনদারও সমানভাবে দায়ী হবেন।”
তিনি আরও জানান, অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৬-এর উপধারা ৫ অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল ঋণগ্রহীতার পাশাপাশি জামিনদারের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে পারে। আদালতের রায় বা ডিক্রি তখন পৃথক ও যৌথভাবে কার্যকর হবে, অর্থাৎ আপনি কিছু না করেও একটি মামলার বিবাদী হিসেবে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্টে মূল ঋণগ্রহীতার পাশাপাশি গ্যারান্টরের নামও ঋণখেলাপির তালিকায় যুক্ত হয়। ভবিষ্যতে আপনি যদি নিজের কোনো প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করেন, তাহলে সেই আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সুতরাং, কারো ঋণের জামিনদার হওয়ার আগে অবশ্যই ভাবুন এবং সব দিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নিন। অল্প সময়ের সহানুভূতি ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
দ.ক.সিআর.২৫