
একসময় বাবার উপার্জনের টাকায় শখ পূরণ করেই কাটত দিন। সময়ের পরিবর্তনে সেই জুনাইদই এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম আর নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বাবার মুখে হাসি ফোটানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি গ্রামের শেখ আব্দুস সত্তার মেম্বারের ছেলে জুনাইদ। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখে তিনি বুঝতে শিখেছেন, নিজের পরিচয় তৈরি করতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। বাবার আশ্রয়ে শখ পূরণের দিন পেছনে ফেলে এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন নিজের উপার্জনে পরিবারকে সহযোগিতা করার এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণের।
প্রবাসজীবন কখনোই সহজ নয়। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের ছেড়ে ভিন্ন পরিবেশে কাজ করা, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা—সবকিছুই একজন প্রবাসীর জীবনের অংশ। জুনাইদের সামনেও রয়েছে সেই বাস্তবতা। তবু স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা তাঁকে এগিয়ে চলার সাহস জোগাচ্ছে।
জুনাইদের এই পথচলার পেছনে রয়েছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তিনি চান, একদিন নিজের পরিশ্রমের সফলতা নিয়ে বাবার সামনে দাঁড়াতে। তাঁর উপার্জন ও অর্জনে বাবার চোখেমুখে ফুটে উঠুক গর্ব আর আনন্দের হাসি।
একজন বাবার কাছে সন্তানের সফলতার চেয়ে বড় প্রাপ্তি খুব কমই আছে। আর সন্তানের কাছে বাবার মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় তৃপ্তিও অনেক সময় আর কিছুতে মেলে না। জুনাইদের স্বপ্ন তাই শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়া নয়; বরং পরিবারের ভালোবাসা, ত্যাগ ও প্রত্যাশার মর্যাদা রক্ষা করা।
বাবার টাকায় বাংলাদেশের ৫৪টি জেলা ঘুরে বেড়ানো, দামি বাইক, ব্যয়বহুল আইফোন, এমনকি হেলিকপ্টার ও বিমান ভ্রমণ সহ বিলাসী জীবনের শখ পূরণের দিন থেকে নিজের উপার্জনে স্বপ্নপূরণের পথে—জুনাইদের এই যাত্রা হয়ে উঠুক সাফল্য, আত্মনির্ভরতা ও বাবার মুখে হাসি ফোটানোর এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
দ.ক/আ