
একটি সংখ্যাই দেখিয়ে দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট কতটা গভীর হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে আত্মহত্যা করা ৪০৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জন, অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ, ছিল স্কুলপড়ুয়া। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এই বড় অংশটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সেই আবেগ, পরিচয় ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।
আঁচল ফাউন্ডেশন দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করেছে। তালিকায় কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৭৭ জন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন। আগের বছর ২০২৪ সালে সংবাদমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।
লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে ২০২৫ সালের ৪০৩ জনের মধ্যে ২৪৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন পুরুষ শিক্ষার্থী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের অংশ ছিল ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কারণ হিসেবে হতাশা ২৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং অভিমান বা তীব্র মানসিক আঘাত ২৩ দশমিক ৩২ শতাংশ ঘটনায় উঠে এসেছে, এছাড়া প্রেমঘটিত জটিলতা ৫৩টি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ৩২টি, মানসিক অস্থিতিশীলতা ২৫টি এবং যৌন নির্যাতন ১৪টি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
তবে এই সংখ্যা কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নয়, তাই প্রকৃত সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। তবু প্রবণতাটি উপেক্ষা করার মতো নয়, স্কুলে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং পরিবারে বিচারহীন কথোপকথন এখন জরুরি। একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, শিক্ষার্থীরা সংকটে পড়ার আগেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা আমরা কতটা তৈরি করেছি?
দ.ক.২৬