
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর হোটেলে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে একটি টিনশেড ঘরে “মাসুম বিল্লাহ হোটেল” নামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু প্রায় সময়ই মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আবুল (৪২) এবং তার সহযোগীরা ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। এমনকি তাকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় মুরুব্বীয়ানদের অবহিত করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনায় নির্ধারিত দিনে মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আবুল তার হাতে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র (চাকু) মাসুম বিল্লাহর গলার কাছে ধরে হুমকি দিয়ে বলেন, “ব্যবসা করতে চাইলে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে, না হলে তোমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে।
এ নিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছি। ওই বিএনপি নেতা আমার কাছে প্রায় সময়ই চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ গত সোমবার ১৬ মার্চ হবিগঞ্জে দ্রুত বিচার আদালতে বিএনপি নেতা আবুলকে প্রধান আসামী করে ৪জনের নামে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপির নেতা শফিকুল ইসলাম আবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন-আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এমনকি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য এ কাজের সাথে জড়িত নহে।
দ.ক.সিআর.২৬