
আসাদ ঠাকুর, অমনিবাস: নির্বাচনকে সামনে রেখে চুনারুঘাট উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা ও অপরাধ প্রবণতা বিবেচনায় উপজেলার কয়েকটি এলাকা ও ভোটকেন্দ্রকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সাদা পোশাকে পুলিশের উপস্থিতি এবং রাত্রীকালীন টহল বাড়ানো হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ষফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করছি। গুজব, অর্থের প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির ব্যবহার—কোনোটিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে—এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর গতিবিধি ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকবিরোধী অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্যাটিক পুলিশ ফোর্স, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার সদস্য, মোবাইল টিম ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তার জন্য রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”
স্থানীয় ভোটার ও সচেতন মহলের মতে, মাঠপর্যায়ে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তাদের আশা, এই কঠোর ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চুনারুঘাটে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দ.ক.সিআর.৩৬