
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সারি সারি ঘরগুলো এখন মাদকের আখড়া হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ ও একটি বারান্দা, টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কিছু ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। এই সুযোগে দিন ও রাতের বেলায় অবাধে মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চলছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই একর ছয় শতাংশ খাস জমিতে ৭৪ জন ভূমি ও গৃহহীনকে সরকারি অর্থে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। একেকটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৫ টাকা।
২০২১ অর্থ বছরে এই প্রকল্পে ৭৪টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জু চৌধুরী ও হুমায়ুন চৌধুরী সুফলভোগীদের তালিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েকটি ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। কিছু ঘর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যারা এখন থাকছেন, তাদের অধিকাংশেরই নিজের নামে বরাদ্দ নেই।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) এই অভিযোগ নিয়ে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একজন চেয়ারম্যান জেলে ও অন্যজন পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বরাদ্দের ঘরগুলো মাদক বেচাকেনার জন্য ভাড়া দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে। গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কেনাবেচা চলে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই ঘরগুলোতে কয়েক বছর ধরে মাদক বেচাকেনা চলছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুবকদের যোগসাজশ আছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালীও মাদকের আড্ডায় আসেন। একই ঘরে গাঁজা সেবন চলে এবং ঘরগুলো মাদক সেবন ও বিক্রির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আরও জানান, বরাদ্দের ভাড়া ঘরগুলোর বেশির ভাগ নারীই গোপনে দেহ ব্যবসা করেন। এমন অপকর্ম করতে এসে অনেকেই স্থানীয় লোকদের হাতে ধরাশায়ী হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো ৫০-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আবার কেউ কেউ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মাসিক চুক্তিতে ঘরগুলো ভাড়া দিয়েছেন।
এছাড়াও কিছুসংখ্যক ঘরে তালা ঝুলছে, ঝোপঝাড় ঘিরে ধরেছে ঘরগুলো এবং চুলা ভেঙে গেছে। ইকরতলি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ ৭৪টি ঘরের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪৮টিতে পরিবার থাকে। বাকি ঘরগুলো কোনো দিন খোলাও হয়নি।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পকে মাদকমুক্ত করার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
চুনারুঘাট উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ.ক.সিআর.২৫