
নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় সংঘটিত আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ আশিক মিয়া (২০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মামলাটি দায়েরের পরপরই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন পৈল ইউনিয়নের আউশপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ আশিক মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আশিক মিয়া (২০) বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের শের আলীর ছেলে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন মক্রমপুর পাটলী এলাকার বাসিন্দা। প্রধান আসামি আশিক মিয়া মক্তবে আরবি শিক্ষা দেওয়ার সুবাদে ভিকটিমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ভিকটিমকে এক জগ পানি আনার কথা বলে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। কক্ষে প্রবেশের পর অপর দুই সহযোগী আসামি ভিকটিমের হাত চেপে ধরে এবং গামছা দিয়ে মুখ চেপে রাখে। এ সময় প্রধান আসামি জোরপূর্বক ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে ভিকটিমের চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মামলা না করার জন্য আসামিরা ভিকটিমের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভিকটিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একই মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব-৯।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এলিট ফোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাব-৯ হত্যা, ধর্ষণ, মাদক কারবার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে । দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দ.ক.সিআর.২৫