
শেখ শোভন আহমেদ : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্ৰহ, উত্তেজনা ও হতাশার যেন শেষ নেই। সেই সাথে পরিস্থিতি যেন আরও বদলে গেছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে।
দেশের প্রতিটি আসনেই যেন এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় গোপালগঞ্জ-১ আসন তথা (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আংশিক) নির্বাচনী এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমেই হিংসাত্মক বা আধিপত্য বিস্তারের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খান্দারপাড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির খানের বাড়িতে আগুন লেগেছে।(২১ ডিসেম্বর) মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড় ইউনিয়নের বেজড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে নাকি শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, কে বা কারা সাব্বির খানের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে ঘরের আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দিলে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সাব্বির খানের অনুসারীদের দাবী সম্পূর্ণ ঘটনায় পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাময়। গুঞ্জন রয়েছে সাব্বির খান এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক।
গোপালগঞ্জ-১ তথা কাশিয়ানী মুকসুদপুর আসনে একবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে জনাব সেলিমুজ্জামান সেলিম,অন্য দিকে এনসিপি থেকে প্রলয় কুমার পাল, আমজনতা দল থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়া, এবি পার্টি থেকে প্রিন্স আল আমিন, জনতা দল থেকে মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে এসরান হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র থেকে আশরাফুল আলম শিমুল, এম আনিসুল ইসলাম, মো. সুজাউদ্দিন অপুসহ ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন কিনেছেন।তবে স্থানীয় সকল দলেরই নেতা কর্মীদের মাঝে একটি আশংকা রয়েছে আর সেটি হলো, কোন একটি কুচক্রী মহল এই শান্তিময় নির্বাচনের পরিস্থিতি বানচাল করতে বিভিন্ন ধরণের নীল নকশা তৈরি করছে। যেন একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। এবং এই আসনের অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা বলছেন,একটি বৃহত্তর দল নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছে।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আংশিক) আসনটি বরাবরই অতীতে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আর বর্তমানে দেশের এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে আছে এবং পলাতক আছে। তবে অনেকেই বলছেন,এই সুযোগই গ্ৰহণ করতে চাইবে সকল প্রার্থীই, তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ছায়াতলে।
দ.ক.সিআর.২৫