
আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুড়িগ্রাম : চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় আলুর আবাদ বেড়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯০০ হেক্টর বেশি। জেলায় মোট ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ১০০ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত বছর আলুর দাম আশানুরূপ না থাকায় অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তবুও এবছর লাভের আশায় কৃষকরা চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অধিক জমিতে আলু চাষ করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে নিম্নমূল্যের কারণে এবছরও তারা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। সার, বীজ ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১৬ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বাজারে পাইকারি মূল্য ১২ থেকে ১৫ টাকা হওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক মো. রহমত আলী (৫৮) বলেন, “আমরা যদি প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা করে বিক্রি করতে পারি, তবেই কিছুটা লাভবান হতে পারব। কিন্তু প্রতি কেজি আলু ১৮ টাকার নিচে বিক্রি করলে গত বছরের মতো আবারও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, তাদের উৎপাদিত আলু বাজারজাত করতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। তবে পাইকারি মূল্য যদি কমে যায়, তাহলে তারা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিদেশে আলুর চাহিদা বাড়ছে—এটি কৃষকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। সঠিক বাজারব্যবস্থা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লাভবান হবেন।”
কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষিতে ইতিবাচক সংকেত হলেও অতিরিক্ত সরবরাহ, আমদানির প্রভাব ও সরকারি সহায়তার ঘাটতি বাজারের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে। ফলে ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে কৃষকরা আগাম মৌসুমে আলু চাষে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন।
দ.ক.সিআর.২৫