1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

সাংবাদিকতা: লুৎফুর রহমান হিমেল

লুৎফুর রহমান হিমেল
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাংবাদিকতা হলো সমাজের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, তথ্য ও সত্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বা পেশা। একে সমাজের দর্পণও বলা হয়। সাংবাদিকতার মূল কাজ মাঠপর্যায় থেকে সত্য ও নির্ভুল তথ্য জোগাড় করা। এবং প্রাপ্ত তথ্য কতটা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ, তা নিশ্চিত করা।

এই সাংবাদিকতা বা সাংবাদিকদের জীবনে নানা রস-রহস্যময় ঘটনা ঘটে। সেসব ঘটনার কোনটা ঘটে অফিসের অন্দরে, কোনটা বা সংবাদ সংগ্রহের মাঠে। যদিও সেসব ঘটনা কোনো দিন পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়ে আসে না। কারণ, পরকে নিয়ে খবর বানানো আর পরের খবরই দেশবাসীকে পরিবেশন করাই তো সাংবাদিকদের কাজ! নিজেদের খবর কজন আর লেখে?

অফিসের বার্তাকক্ষ থেকে শুরু করে মাঠের রিপোর্টিং—এমনই কিছু সত্য ঘটনা আর পেশাগত কৌতুকগল্পের সমাহার নিয়ে এই লেখা। পড়ে অন্তত এটুকু বুঝতে পারবেন, সাংবাদিকতাকে যে অনেকে রসকসহীন কাঠখোট্টা পেশা বলেন, সেই অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়। আর সাংবাদিকরা যে শুধুই খবরের পেছনে ছোটা খ্যাপাটে লোক নন, তাদের একটা আস্ত রসবোধের জগতও আছে, সেই অভিযোগ থেকেও তারা কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন!

গল্প শুরু করা যাক…

ধর্ষণটা করল কে?:
অফিসের ভেতরে সাংবাদিকদের মধ্যকার খোশগল্প আর কাজের কথাবার্তা যদি আড়ি পেতে থাকা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক শুনত, নির্ঘাত কয়েকজনকে খপ করে ধরে নিয়ে যেত! কারণ, অফিসের বার্তাকক্ষে নিউজ নিয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিকরা সংক্ষেপে কিছু ‘কোড ল্যাংগুয়েজ’ ব্যবহার করেন। যেগুলো আসলে বাইরের লোকজনের বোঝার একদম সাধ্য নেই।

যেমন ধরুন, বার্তা সম্পাদক বা চিফ রিপোর্টার হয়তো পুরো নিউজরুম মাথায় তুলে হাঁকলেন, “এই, চট্টগ্রামের খুনটা কে করেছে রে?” কিংবা “ঝিনাইদহের ধর্ষণটা করল কে?”

জবাবে হয়তো কোনো জুনিয়র সাংবাদিক হাত তুলে দাঁড়িয়ে বলল, “জি ভাই! খুনটা আমি করেছি। কোনো সমস্যা আছে কি?” আরেকজন হয়তো পাশ থেকে বলল, “ভাই, ধর্ষণটা আমি করতেছি। করা শেষ হলেই আপনাকে দিচ্ছি!”

আসলে খুন বা ধর্ষণ তারা কেউই করেননি। তারা মূল নিউজের কপিটা সম্পাদনা বা এডিট করছেন মাত্র। সেই সংবাদে আরও কিছু সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন দরকার বলেই জুনিয়রদের তলব করা হয়েছিল। বার্তাকক্ষে এভাবেই সংক্ষেপে কথা হয়। “চট্টগ্রামের মিতু হত্যাকাণ্ডের সংবাদটি কে সম্পাদনা করেছে?”, এভাবে লম্বা চওড়া কথা কেউ বলে না। তবে অনভ্যস্ত কোনো বাইরের লোক ভুল করে যদি তখন নিউজরুমে ঢুকে পড়ে, তার মাথা যে ভনভন করে ঘুরবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই!

মজার ভুল:
সংবাদবিষয়ক আলাপ-আলোচনার মধ্যে নানা জায়গা থেকে আসা নিউজের মারাত্মক সব মজার ভুল নিয়েও সরস কথাবার্তা হয়। তখন পুরো নিউজরুম কার্যত গমগম করে ওঠে। দূর থেকে দেখে ঠিক ঠাহর করা যায় না যে এটি পত্রিকার বার্তা বিভাগ নাকি কোলাহলপূর্ণ মাছের বাজার! তবে এই হট্টগোলেও কাজের কিন্তু কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। যেহেতু এই কোলাহল পুরোটাই নিউজ রিলেটেড।

এ রকম একটা বিখ্যাত ভুলের গল্প নিয়ে এখনো নিউজ ডেস্কে আড্ডা জমে। বহু দিন আগের কথা। একদিন রাজধানী থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদে ছাপা হলো:

“… পুলিশের গু খেয়ে বকের মৃত্যু।”

আসলে মূল রিপোর্টটি ছিল:

“… পুলিশের গুলি খেয়ে যুবকের মৃত্যু।”

টাইপ আর প্রুফের ভুলের কী মহিমা! যা-ই হোক, পুলিশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ এলো। পরদিন পত্রিকাটি চরম বিব্রত হয়ে কলামের এক কোণে দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধন ছাপাল:

“… গতকালের সংবাদের ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আসলে সেখানে হবে, ‘পুলিশের গুলি খেয়ে যুবকের মৃত্যু’। আমাদের পাছায় চুল ছিল।”

পাঠক এই সংশোধনী পড়ে তো আরও তাজ্জব! বিশেষ করে ‘পাছায় চুল’ নিয়ে এবার দেশব্যাপী তুমুল হাস্যরসের সৃষ্টি হলো। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারল, ভুল শুধরাতে গিয়ে তারা আরও মহাজাগতিক ভুল করে বসেছে! (প্রিন্টিং মিসটেক: ‘আমাদের ছাপায় ভুল ছিল’ হয়ে গেছে ‘আমাদের পাছায় চুল ছিল’)।

উপায়ান্তর না দেখে তৃতীয় দিন তারা আবার বিজ্ঞপ্তি ছাপাল:

“… ভুলে আমাদের ‘পাছায় চুল’ লিখা হয়েছে। আসলে হবে ‘আমাদের ছাপায়’ ভুল ছিল। ধন্যবাদ।”

পত্রিকা প্রকাশ করলে এমন ভুল কিছু না কিছু হবেই। পত্রিকা প্রকাশ না করলেই কেবল কোনো ভুল হওয়ার চান্স নেই! তবে এই ভুলগুলো অনেক সময় এতই রসাত্মক হয় যে রীতিমতো ইতিহাস হয়ে যায়।

যেমন আরেকটা ক্লাসিক ভুল:

“নিহত চরমপন্থী নেতা জব্বার তখন বাজারের মজিদ মিয়ার দোকানে বসে চা-বিস্কুট খাচ্ছিলেন।”

নিহত মানুষ চা-বিস্কুট খাচ্ছে! কীভাবে সম্ভব? সংবাদের শুরুতে যেহেতু দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে জব্বার মিয়ার হত্যাকাণ্ডের কথা বলাই আছে, পরের বাক্যে যতবারই তার কথা আসুক, ‘নিহত’ শব্দটা না বসালেই তো চলত।

একইভাবে “নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ…” টাইপের বাক্যের তো ছড়াছড়ি! ভাইরে ভাই, লাশ তো নিহতেরই হয়, জীবিত মানুষের লাশ তো এই জীবনে কেউ দেখেনি!

অফ দ্য রেকর্ড
সাংবাদিকতায় ‘অফ দ্য রেকর্ড’ বলে একটা বহুল প্রচলিত কথা আছে। এর সহজ মানে হলো, যা বলা হচ্ছে তা কেবল বোঝার জন্য, রেকর্ড করা যাবে না। বক্তা বলবেন, রিপোর্টার শুনবেন; কিন্তু কোনোভাবেই তাকে কোট করা যাবে না, কিংবা তথ্যটা সরাসরি প্রকাশও করা যাবে না।

সেই এক-এগারোর সময়ের কথা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম তখন টিভিতে বেশ পরিচিত মুখ। সে সময় মিট দ্য প্রেসে প্রতিদিনই উনার সরস কথাবার্তা সাংবাদিকদের বেশ আনন্দ দিত। দর্শককুলও তাঁর ব্রিফিং শোনার জন্য মুখিয়ে থাকত।

একদিন টিভিতে লাইভ দেখছিলাম। কোনো এক জরুরি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন তিনি। হুট করে সাংবাদিকদের দিকে ঝুঁকে তিনি গম্ভীর মুখে বললেন, “শোনেন আপনারা, অফ দ্য রেকর্ডে একটা কথা বলি…”

অথচ টিভিতে তখন তাঁর সেই বক্তব্য সরাসরি ‘লাইভ’ সম্প্রচার করা হচ্ছিল! এটা শুনে উপস্থিত সব রিপোর্টার হো হো করে হেসে উঠলেন। একজন সাংবাদিক উনাকে বলেই ফেললেন, “স্যার, অনুষ্ঠান তো টিভিতে পুরো লাইভ চলছে! তাহলে অফ দ্য রেকর্ড….”

কথাটা শুনে উপদেষ্টা মহোদয়ও আর গম্ভীর থাকতে পারলেন না, সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনিও প্রাণখুলে হাসিতে যোগ দিলেন।

ডাবল মার্ডার!
পত্রিকার লেটনাইট ডিউটি মানে অনেকটা নিশাচর নৈশপ্রহরীর ভূমিকা। রাত যত গভীর হয়, চোখ-কান তত বেশি সজাগ রাখতে হয়, দেশের কোথাও বড় কিছু ঘটল কি না! শুধু দেশেই নয়, বিদেশের ভূখণ্ডেও বড় কোনো কাণ্ড ঘটে গেল কি না, খবর রাখতে হয় সারাক্ষণ।

তখন আমি বাংলাদেশ প্রতিদিনে বার্তা প্রধানের দায়িত্ব পালন করি। এক রাতের কথা। লেটনাইটে ডেস্ক সামলাচ্ছি। হঠাৎ নাইট ডিউটিতে থাকা এক জুনিয়র রিপোর্টার প্রায় দৌড়ে এলো। আমার টেবিলের সামনে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “ভাইয়া! ডাবল মার্ডার হইছে!”

শুনেই ‘বড় ব্রেকিং কিছু পাওয়া গেছে’ ভেবে আমি চেয়ার থেকে একপ্রকার লাফিয়ে উঠলাম। দেশে একক মার্ডার তো এখন ডালভাত, সাধারণ নিউজের কদর কমে গেছে। সংবাদের মূল ভ্যালু ধরে রাখে ডাবল মার্ডার, ট্রিপল মার্ডার বা সেভেন মার্ডারের মতো বড় ঘটনা। আর লেটনাইটে যদি এমন খবর আসে, তবে তো রাতের পুরো লিড নিউজই বদলে ফেলার আয়োজন করতে হয়!

একদিকে খবরের উত্তেজনা, অন্যদিকে নিজের ভেতরে একটু ভয়ও কাজ করছে। ভয় খুনোখুনির জন্য নয়; রাত জাগার ভয়ে! ল্যাপটপ বন্ধ করে ব্যাগ গুছাচ্ছিলাম বাসায় যাওয়ার জন্য। এখন এই ডাবল মার্ডার কাভার করতে গেলে তো নির্ঘাত রাত তিন-চারটা বাজবে!

নিজেকে সামলে নিয়ে রিপোর্টারকে বললাম, “ঘটনা কোন জায়গার? বিস্তারিত বলো দেখি, নিউজের ম্যারিট কেমন বুঝি আগে।”

এরপর রিপোর্টার যা বলল, তা রীতিমতো নিউজরুমের ইতিহাস হয়ে গেল! সে খুব গম্ভীর মুখে জানাল, “ভাই, একটা ঘটনা যাত্রাবাড়ীর, আর আরেকটা হইছে বাড্ডায়!”

আমি চোখ বড় বড় করে বললাম, “বলো কি! তাইলে তো দুই জায়গায় ডাবল মার্ডার হয়ে গেছে! ও মাই গড! চার খুন!”

রিপোর্টার অমনি সরল মুখে জবাব দিল, “না ভাইয়া, ডাবল মার্ডার একটাই! একজন নিহত হইছে যাত্রাবাড়ীতে, আরেকজন বাড্ডায়…”

ততক্ষণে যা বোঝার আমার বোঝা শেষ! দুই আলাদা জায়গার দুটি পৃথক খুনকে যোগ করে এক সুতায় গেঁথে ‘ডাবল মার্ডার’ বানিয়ে ফেলেছে! আলাদা দুটি ঘটনায় দুজন মানুষ মারা গেলে যে তাকে ‘ডাবল মার্ডার’ বলা যায় না, সেটি তাকে আবার নতুন করে এই নিশুতি রাতে বোঝানোর মতো সাহস বা ধৈর্য আর আমার অবশিষ্ট ছিল না। বাতাস বের হয়ে যাওয়া ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গিয়ে আবার নিজ চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লাম!

চাঁদপুরের কলেরা
অনেক আগেকার কথা। তখন হাতে গোনা দু-একটা পত্রিকা আর বিটিভি ছাড়া কিছু ছিল না। জেলা পর্যায় থেকে খবর পাঠানোর সুযোগও ছিল সীমিত।

একবার চাঁদপুরের এক স্থানীয় প্রতিনিধি ঢাকায় তাঁর বার্তা বিভাগে খবর পাঠালেন, “জেলায় কলেরার প্রাদুর্ভাব, ৩০ জনের মৃত্যু!” পরদিন সকালে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, কলেরায় কেউ মারা যায়নি। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানোর কারণে বার্তা সম্পাদক রেগেমেগে সেই প্রতিনিধিকে সশরীরে ঢাকায় ডেকে পাঠালেন কৈফিয়তের জন্য।

জিজ্ঞাসা করা হলো, “মিয়া, এমন মনগড়া মিথ্যা খবর পাঠালে কেন?”

প্রতিবেদক তখন অতি-সরল ভঙ্গিতে বললেন, “ভাই, এলাকায় মারাত্মক কলেরা ছড়াইছে। হাসপাতালেও ভর্তি অনেক লোক। চারদিকে মৃত্যুর খবর শুনছিলাম। তাই আনুমানিক ধইরা নিলাম ৩০ জন তো মারা গেছেই!”

বার্তা সম্পাদক বুঝে গেলেন, এই প্রতিনিধি মূলত ‘অনুমান সাংবাদিকতা’ করেছেন! রাগকে একটু চেপে রেখে বার্তা সম্পাদক বললেন, “শোনো হে, অনুমান করে রিপোর্ট লেখারও একটা টেকনিক বা ফর্মুলা আছে। এরপর থেকে এমন খবর লিখলে প্রতিটা বাক্যের মাঝে কায়দা করে একটা ‘নাকি’ বসিয়ে দেবে! যেমন: ‘চাঁদপুর শহরে নাকি কলেরায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসক নাকি বলেছেন, ১০০ জন না মরা পর্যন্ত এটাকে দুর্যোগ বলা যাবে না। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নাকি চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে…!’ বুঝলে এবার?”

উজান-ভাটির চক্কর
এটিও অনেক কাল আগের কথা। সরেজমিন রিপোর্ট করে মফস্বলের এক সাংবাদিক লিখেছেন:

“পদ্মায় ট্রলারডুবিতে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে এবং তার উজানেও ভেসে এসেছে বেশ কয়েকজনের লাশ। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।”

খবর তো হুবহু ছাপা হয়ে গেল। পরদিন সকালে খবর পড়ে সুশীল সমাজ ও পাঠকদের মধ্যে হাসাহাসি আর সমালোচনার ঝড়! মূল প্রশ্ন একটাই, নদীর স্রোত ঠেলে লাশ কীভাবে সাঁতার কেটে ‘উজানে’ ভেসে যায়?

রিপোর্টারকে তলব করা হলো ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে। চাকরি কেন যাবে না, এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হলো। রিপোর্টার বেশ মন খারাপ করে বার্তা সম্পাদকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, “ভাই, আমি আসলে উজান আর ভাটির পার্থক্যটা পরিষ্কার বুঝি না। ছোটবেলা থেকেই এই দুটোর মধ্যে আমার গুবলেট পেকে যায়! কোনটা উজান আর কোনটা ভাটি, মাথার ভেতর চক্কর দেয়। তাছাড়া আমি তো মফস্বলের সামান্য এক সাংবাদিক, কম বুঝি। কিন্তু ঢাকা অফিসের বার্তা সম্পাদক, নিউজ এডিটর, কপি এডিটর আর প্রুফ রিডাররা কী করলেন? উনারা কি লেখাটা চোখ বুজে সম্পাদনা করে দিলেন? এখন আমার চাকরি গেলে উনাদের চাকরিও তো আগে যাওয়া উচিত!”

বার্তা সম্পাদক দেখলেন মহা মুশকিল! এই অতি-চালাক রিপোর্টার তো একা পদ্মায় ডুবে মরবে না, সাথে অফিস ডেস্কের পুরো টিমকে নিয়ে ডুববে! তাছাড়া তার কথায় যে যুক্তি একেবারে নেই, তাও বলা যাচ্ছে না। বার্তা সম্পাদক ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বললেন, “ঠিক আছে, তোমার চাকরি যাচ্ছে না।’’

ম্যান ফ্রম ফেনী
সে-ও অনেক দিন আগের স্মৃতি। ঐতিহ্যবাহী ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকায় কাজ করতেন এক প্রবীণ সাংবাদিক। একদিন গভীর রাত পর্যন্ত লেটনাইট ডিউটি শেষ করে তিনি উত্তর শাহজাহানপুরের বাসায় ফিরেছেন। ফেরার পথে হয়তো শরীরটা একটু বেশিই ‘তরল জাতীয় পানীয়ে’ রিচার্জ করে এসেছিলেন! ফ্ল্যাটের নিচতলার অন্ধকার সিঁড়িতে এসে আর এগোতে পারলেন না, ওখানেই ঝিম মেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লেন।

কাকতালীয়ভাবে উনার এক সহকর্মী সাংবাদিকও ওই একই ভবনে থাকতেন। তিনি অন্য একটি পত্রিকায় কাজ করেন। সে রাতে একটু পর কাজ শেষ করে রাতের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সময় তিনি অন্ধকারেই কার ওপর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়লেন!

ভয়ে-আতঙ্কে আঁতকে উঠে সেই সহকর্মী চিৎকার দিলেন, “আরে! কে… কিরে বাবা! এটা কী?”

সিঁড়িতে গড়িয়ে থাকা সাংবাদিক মহোদয় তখন অন্ধকার থেকেই অত্যন্ত গুরুগম্ভীর গলায় ইংরেজিতে বলে উঠলেন:

“কী নয়! আই অ্যাম অমুক… ম্যান ফ্রম ফেনী! আই অ্যাম লাইয়িং অন দ্য ল্যান্ডিং…!”

সহকর্মী তখন ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়িয়ে লাইট জ্বালিয়ে বললেন, “আরে ভাই আপনি! তা এত রাতে ঘরে না গিয়ে এই সিঁড়িতে বসে আছেন কেন? রুমে যান!”

ফেনীর সেই সাংবাদিক তখন বিষণ্ণ মুখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আর ঘর! ঘরে গিয়ে আর কী লাভ বলো? সেই তো সকাল হলেই আবার অফিসের জন্য বের হতে হবে!”

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews