
উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একজন কিংবদন্তি বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের গুরু । বাবা আলাউদ্দিন খান নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন । সেতার ও সানাই এবং রাগ সঙ্গীতে বিখ্যাত ঘরানার গুরু হিসাবে সারা বিশ্বে তিনি প্রখ্যাত । মূলত সরোদই তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বাহন হলেও সাক্সোফোন, বেহালা, ট্রাম্পেট সহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্রে তার যোগ্যতা ছিল অপরিসীম । আলাউদ্দিন খাঁ এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুরে । তাঁর সন্তান ওস্তাদ আলী আকবর খান ও অন্নপূর্ণা দেবী নিজস্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । আচার্যের বিখ্যাত শিষ্যরা হলেন পণ্ডিত রবি শঙ্কর, পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জী, বসন্ত রায়, পান্নালাল ঘোষ সহ আরো অনেকে ।
ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে সম্মানিত করে। ১৯৫২ সালে ভারতের সংগীত নাটক একাডেমির ‘ফেলো’ নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ১৯৭২ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাব অর্জন করেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘ডক্টরেট’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতীর ‘দেশীকোত্তম’ উপাধি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল তাকে আজীবন সদস্য সম্মানে ভূষিত করে।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ অনেক নতুন রাগ সৃষ্টি করেন। তার মধ্যে হেমন্ত, প্রভাত কেলী, হেম বেহাগ, মদন মঞ্জরী, রাগ আলাউদ্দিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মাইহার রাজ্যে তার বাসভবন ‘মদিনা ভবনে’ ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওস্তাদ আলাউদ্দিন ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বলে গেছেন যে, তিনি কিছুই শিখতে পারেননি, শেখার আরও অনেক কিছু শেখা বাকি রয়ে গেলো। দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় ও ঐকান্তিকতা থাকলে মানুষ যে যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞের প্রয়াণবার্ষিকীতে জানাই অশেষ শ্রদ্ধা —