1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক?  চুনারুঘাটে সাবেক মেয়রের সঙ্গে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইউরোপ স্বপ্নের মর্মান্তিক পরিণতি: লাশ হয়ে ফিরলো বানিয়াচংয়ে জাহাঙ্গীর চুনারুঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত চুনারুঘাট শহরে মাদক, বখাটেপনা ও চুরি প্রতিরোধে মতবিনিময় সীমানা প্রাচীর নেই, ঝুঁকিতে হাজী আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা প্রবাসী জাবের চৌধুরীর লোক কর্তৃক নৌকার সুকানিকে মারধর, আটকে চাঁদা দাবি ও বিপাকে ইজারাদার বানিয়াচংয়ে চলাচলের অনুপযোগি রাস্তার ভোগান্তি কমাতে নিজস্ব উদ্যোগে এলাকাবাসীর সংস্কার শাসক বদলায়, ক্ষমতা বদলায়; মানুষের ভাগ্য বদলায় কবে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক? 

নিপুণ চন্দ্র
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়া স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি রাষ্ট্রপতি। অথচ সাধারণ নাগরিক সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন না। বর্তমান সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১কে বর্তমান আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থা। এখানে রাষ্ট্রপতি মূলত রাষ্ট্রপ্রধান, আর সরকার পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার। সংবিধানও রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ কার্যক্রমকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত করার প্রশ্নটি শুধু নির্বাচনপদ্ধতির পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এবং সামগ্রিক শাসনকাঠামোর ভারসাম্যও জড়িত।

কিন্তু এখানেই বিতর্কের জায়গাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করলেও বাস্তবে সংসদে কোনো একটি দল বা জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেক সময় জনগণের সরাসরি পছন্দের প্রতিফলনের চেয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

এই ব্যবস্থায় আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—রাষ্ট্রপতি কি কেবল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, নাকি সাংবিধানিক ভারসাম্যের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান? সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসালেও অধিকাংশ দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা যতটা উচ্চ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র ততটা বিস্তৃত নয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও রাষ্ট্রপতি পদ ও নির্বাচনব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান ছিল। পরে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা আসে। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর পর সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবার পরোক্ষ পদ্ধতিতে ফিরে যায়।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা একরৈখিক নয়। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো যখন বদলেছে, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও ক্ষমতার কাঠামোও বদলেছে। তাই বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করতে হলে শুধু ‘জনগণ সরাসরি ভোট দিতে পারে না’—এই একটি যুক্তিতে থেমে গেলে হবে না। দেখতে হবে, রাষ্ট্রপতির প্রকৃত ক্ষমতা কী, তিনি কোন প্রতিষ্ঠানকে ভারসাম্য দিতে পারেন এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সংকটে তাঁর ভূমিকা কতটা কার্যকর।

বর্তমান সময়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনার কারণে। জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দুই কক্ষের সংসদের সদস্যদের গোপন ব্যালটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে কোনো সরকারি, রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক দলীয় পদে থাকা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রস্তাবের একটি ইতিবাচক দিক হলো—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটের ধারণা। সংসদ সদস্যরা যদি দলীয় নির্দেশের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার বাস্তব সুযোগ পান, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা আরও অর্থবহ হতে পারে। কিন্তু শুধু ব্যালট গোপন করলেই কি দলীয় প্রভাব দূর হবে? সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব যদি তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তাহলে গোপন ব্যালটও কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা নিশ্চিত নাও করতে পারে।

দুই কক্ষের সংসদের প্রস্তাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভবিষ্যতে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সমন্বয়ে সংসদ গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উভয় কক্ষের প্রতিনিধিদের ভোট থাকে, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভিত্তি বর্তমানের তুলনায় বিস্তৃত হবে। কিন্তু সেই উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং ভোটের ওজন কী হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর ছাড়া শুধু কাঠামো পরিবর্তন করলেই গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না।

আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘সরাসরি ভোট নেই’—এটি একা নয়; বরং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতি যদি বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে চলে যান, তাহলে সংসদীয় ব্যবস্থায় দ্বৈত নির্বাহী ক্ষমতার সংকট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি যদি জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট না পেয়েও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকেন এবং কার্যত কোনো স্বাধীন ভূমিকা রাখতে না পারেন, তাহলে তাঁর নির্বাচন নিয়ে জনসম্পৃক্ততার ঘাটতি থেকেই যায়।

তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংস্কারের আগে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন—বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কেমন রাষ্ট্রপতি চায়? শুধুই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, নাকি সংসদ ও সরকারের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান? উত্তরটি স্পষ্ট না করে নির্বাচনপদ্ধতি পরিবর্তন করলে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে, পুরোনো সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের পদে না থাকার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে রাষ্ট্রপতির পদটি দলীয় রাজনীতির সরাসরি প্রভাব থেকে কিছুটা দূরে রাখা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রার্থী অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা নিজেই অযোগ্যতার কারণ হবে কি না এবং নির্বাচনের পর তাঁর নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো দরকার।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের পক্ষে যুক্তিও কম নয়। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনগণের কাছ থেকে আলাদা ম্যান্ডেট পাবেন। এতে রাষ্ট্রপ্রধানের গণভিত্তি শক্তিশালী হবে। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক রাজনৈতিক ম্যান্ডেট তৈরি হলে দুজনের মধ্যে ক্ষমতার সংঘাতের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো সংসদীয় ব্যবস্থায় এ ধরনের পরিবর্তন খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

বরং একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদীয় পদ্ধতি বজায় রেখে প্রার্থী বাছাই ও ভোটদানের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বাধীন করা। সংসদে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা, প্রার্থীদের সাংবিধানিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যের সুযোগ, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোট এবং ভোটের ফল প্রকাশের পূর্ণ স্বচ্ছতা—এসব ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থবহ করতে পারে।

এখানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে স্বাধীন এবং সংবিধান ও আইনের অধীন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়ন, প্রার্থিতা যাচাই, ভোটগ্রহণ, ফল ঘোষণা এবং পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ।

তবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা শুধু কাগজে থাকলে চলবে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেহেতু সাধারণ ভোটারদের সরাসরি অংশগ্রহণের নির্বাচন নয়, তাই প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা আরও বেশি জরুরি। কে প্রার্থী হলেন, তাঁর যোগ্যতা কী, কারা প্রস্তাব ও সমর্থন করলেন, ভোট কীভাবে হলো এবং ফল কীভাবে নির্ধারিত হলো—এসব তথ্য জনগণের সামনে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিক পুরস্কারে পরিণত করা যাবে না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন ব্যক্তি প্রয়োজন, যিনি দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান, রাষ্ট্র ও নাগরিকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম। দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে আসা মানেই যে তিনি নিরপেক্ষ হবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই; আবার রাজনৈতিক অতীত থাকা মানেই যে তিনি অযোগ্য, তাও নয়। আসল বিষয় হলো তাঁর সাংবিধানিক বোধ, নৈতিক অবস্থান, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান আলোচনা তাই কেবল একজন নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আলোচনার কেন্দ্র হওয়া উচিত রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে আরও কার্যকর, মর্যাদাপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করা যায়। কারণ ব্যক্তি পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা যায় না; প্রয়োজন হয় নিয়ম, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।

বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের সুযোগ এলে তা যেন কোনো দল বা জোটের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রকল্প না হয়। ভবিষ্যতের সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের জন্য সমানভাবে কার্যকর একটি ব্যবস্থা তৈরি করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু ভোটে নয়, ক্ষমতার প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হয় তার মধ্যেও নিহিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক করতে হয়, তাহলে প্রশ্নটি হওয়া উচিত—‘কে রাষ্ট্রপতি হবেন’ নয়; বরং ‘কীভাবে এমন একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, যিনি সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং প্রয়োজনের সময় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন’।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সংস্কার তাই রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় হতে পারে, কিন্তু এর ভিত্তি হতে হবে সাংবিধানিক যুক্তি ও জনস্বার্থ। সরাসরি ভোট, সংসদীয় ভোট, দুই কক্ষের সংসদ, গোপন ব্যালট কিংবা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার শর্ত—প্রতিটি প্রস্তাবের সুবিধা ও ঝুঁকি খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে একটি পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এমন একটি কাঠামো তৈরি করাই হবে রাষ্ট্রের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নির্ভর করে শুধু বঙ্গভবনে কে বসছেন তার ওপর নয়; বরং তাঁকে কীভাবে নির্বাচিত করা হচ্ছে, তিনি কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এবং সংবিধান যখন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে তখন তিনি কতটা দৃঢ়ভাবে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর পাশে দাঁড়াতে পারছেন—তার ওপর। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংস্কারের আলোচনাকে তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক গণতন্ত্রের প্রশ্নে পরিণত করাই সময়ের দাবি।

লেখক: মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক বর্তমান বাংলা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

দ.ক/এন.সি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews