1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
আসামপাড়া বাজারে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে ক্রেতা ও ব্যবসায়িদের চরম ভোগান্তি চুনারুঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় “জুলাই দিবস” পালিত মৃত্যু: মহাযাত্রার রাজকীয় গমন- মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে যেসব আয়োজন কবিতা- ❝মবভাঙা, দেশবাঁচা❞ মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ হবিগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালাউক বাজারে লাখাই পুলিশের প্রস্তুতি মহড়া শাহ আজম (রহ.) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউ.কে-র ত্রান ও বস্ত্র বিতরণ

মৃত্যু: মহাযাত্রার রাজকীয় গমন- মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

Reporter Name
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্যটির নাম মৃত্যু। জন্মের মুহূর্ত থেকেই আমরা অদৃশ্য এক যাত্রাপথে পা রাখি, যার শেষ স্টেশন অনিবার্যভাবে মৃত্যু। তবু এই একমাত্র নিশ্চিত ঘটনাকেই আমরা সবচেয়ে বেশি ভুলে থাকতে চাই। যেন মৃত্যু কেবল অন্যের জন্য, নিজের জন্য নয়। অথচ মৃত্যুই জীবনের সেই দরজা, যার ওপারে কী আছে তা কেউ ফিরে এসে নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। তাই মৃত্যু যেমন রহস্য, তেমনি গভীর এক দর্শন।

মৃত্যুকে যদি ভয়ের পরিবর্তে একটি মহাযাত্রা হিসেবে ভাবা যায়, তবে বিষয়টি অন্য রকম হয়ে ওঠে। এটি যেন রাজকীয় এক গমন—পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা, পদ-পদবি, অর্থ, ক্ষমতা, অহংকার এবং অগণিত পরিচয়ের ভার নামিয়ে রেখে অজানা এক গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা। সেই যাত্রায় কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি সঙ্গে নেওয়া যায় না। সঙ্গে যায় না সঞ্চিত সম্পদ, বাহারি পোশাক কিংবা সামাজিক পরিচয়ের চাকচিক্য। মানুষ চলে যায় কেবল তার কর্মের স্মৃতি আর রেখে যাওয়া ভালোবাসার চিহ্ন নিয়ে।
জীবনকে অনেকেই একটি দীর্ঘ রেলভ্রমণের সঙ্গে তুলনা করেন। আমরা কেউ আগে উঠি, কেউ পরে। কেউ দীর্ঘ পথ যাই, কেউ অল্প পথেই নেমে যাই। কিন্তু একসময় সবার জন্যই নির্ধারিত স্টেশন এসে যায়। তখন আর কোনো অজুহাত চলে না। যত ব্যস্ততাই থাকুক, যত অসমাপ্ত কাজই থাকুক, শেষ পর্যন্ত সেই প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হতেই হয়।
জীবনের শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে। কিন্তু এমন এক সময় আসে, যখন চিকিৎসাবিদ্যারও সীমা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন মনে হয়, চিকিৎসক যেন শেষ যাত্রার একজন সহযাত্রী মাত্র—তিনি চেষ্টা করেন, পথ দেখান, কিন্তু যাত্রার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নয়। মানুষ তখন ধীরে ধীরে পাড়ি জমায় এক অজানা গন্তব্যে।

এরপর শুরু হয় অন্যদের ব্যস্ততা। যে দেহটিকে মানুষ এত যত্নে লালন করেছে, সুন্দর পোশাকে সাজিয়েছে, রোগমুক্ত রাখতে কত চিকিৎসা নিয়েছে, সেই দেহই একসময় নিথর হয়ে পড়ে থাকে। আত্মীয়-স্বজন ভালোবাসা আর কর্তব্যবোধ থেকে শেষ বিদায়ের আয়োজন করেন। কেউ মাটির বুকে সমাহিত হন, কেউ আগুনে বিলীন হন—প্রথা ভিন্ন হলেও সত্য একটাই, দেহ প্রকৃতির কাছেই ফিরে যায়। যে শরীরকে কেন্দ্র করে এত অহংকার, এত পরিচয়, শেষ পর্যন্ত তারও নিজস্ব কোনো দাবি থাকে না।

অদ্ভুত বিষয় হলো, মানুষ জীবিত অবস্থায় ধর্ম, জাত, বর্ণ, ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস কিংবা মতাদর্শ নিয়ে কত বিভক্ত! কেউ টুপি পরে, কেউ পাগড়ি, কেউ ধুতি, কেউ লুঙ্গি, কেউ সিঁদুর পরেন, কেউ হিজাব। কেউ এক খাবারকে পবিত্র মনে করেন, অন্যজন সেটিকেই অপছন্দ করেন। অথচ মৃত্যুর মুহূর্তে এই সমস্ত বাহ্যিক পরিচয় একে একে ঝরে পড়ে। তখন মানুষ কেবল মানুষ—অহংকারহীন, ক্ষমতাহীন, পরিচয়হীন এক অস্তিত্ব।

তাই মনে প্রশ্ন জাগে—যে পরিচয়গুলো নিয়ে আমরা সারাজীবন লড়াই করি, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য কতটুকু? যদি শেষ পর্যন্ত সবকিছু পেছনে ফেলে চলে যেতেই হয়, তবে ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা আর অহংকারের এত বোঝা কেন বয়ে বেড়াই? কেন মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে বিভেদের দেয়াল তোলে? কেন ক্ষমতা আর সম্পদের মোহে মানবিকতাকে বিসর্জন দেয়?

মৃত্যু আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই জীবনের আসল সার্থকতা হয়তো বড় বাড়ি বানানোয় নয়, বড় পদ পাওয়ায় নয়; বরং মানুষের হৃদয়ে একটি সুন্দর স্মৃতি রেখে যাওয়ায়। কেউ মৃত্যুর পর সম্পদের জন্য স্মরণীয় হন না; স্মরণীয় হন তাঁর মানবিকতা, সততা, ভালোবাসা আর সেবার জন্য। পৃথিবীতে মানুষের প্রকৃত উত্তরাধিকার তার সম্পত্তি নয়, তার কর্ম।

কে কোথায় যাবেন, কী বিচার হবে, সে প্রশ্ন বিশ্বাস ও ধর্মীয় দর্শনের বিষয়। বিভিন্ন ধর্ম এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু একটি বিষয়ে সব দর্শনের মিল রয়েছে—মানুষের কর্ম কখনো অর্থহীন নয়। ভালো কাজের মূল্য আছে, অন্যায়েরও জবাবদিহি আছে। তাই জীবনের প্রতিটি দিনই যেন আগামী যাত্রার প্রস্তুতি।

শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়তো ভয়ের নাম নয়; এটি জীবনের সবচেয়ে বড় সমতা। এখানে রাজা ও প্রজা, ধনী ও দরিদ্র, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, বিখ্যাত ও অখ্যাত—সবাই একই নিয়মের অধীন। মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে কারও পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় না ক্ষমতার পরিচয়ও। সেখানে মানুষ কেবল তার মানবিকতার পরিচয় বহন করে।

তাই বেঁচে থাকা যতদিন, ততদিন ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া যাক। মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাক। অহংকারের পরিবর্তে বিনয়, বিদ্বেষের পরিবর্তে সহমর্মিতা এবং বিভেদের পরিবর্তে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যাক। কারণ একদিন আমাদের প্রত্যেককেই সেই রাজকীয় মহাযাত্রায় রওনা হতে হবে।

সেদিন পৃথিবী থেকে কেউ কিছু সঙ্গে নিতে পারবে না। থেকে যাবে শুধু স্মৃতি, কর্ম আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া ভালোবাসা। মৃত্যুর এই অনিবার্য সত্যকে স্মরণ করতে পারলেই হয়তো জীবনকে আরও সুন্দর, আরও অর্থবহ এবং আরও মানবিক করে তোলা সম্ভব।

লেখক ~ কবি কলামিস্ট ও সাংবাদিক

দ.ক.সিআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews