
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বান্নি পার্ক এন্ড রেষ্টুরেন্ট এর ভেতর থেকে একটি লাইভ ভিডিও স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়।
বান্নী পার্কে রমজান মাসের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে এই আবহে ভিডিওটি জনে জনে শেয়ার হতে থাকে। এরি মধ্যে চুনারুঘাটের স্থানীয় এক সংবাদদাতার “বান্নী পার্ক এন্ড রেস্টুরেন্টে চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলা” শিরোনামে একটি সংবাদ দৈনিক কালনেত্র প্রকাশ করে।
সংবাদটি চুনারুঘাট সরকারী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক জমশেদ আলী খান রাসেল এর দৃষ্টিগোছড় হলে তিনি কালনেত্র কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় সংবাদদাতার পাঠানো সংবাদের সত্যতা যাছাই এবং মুল ঘটনাটি কালনেত্রকে তোলে ধরার অনুরোধ জানালে আমাদের প্রতিনিধি যা জানান—
কালনেত্র : পবিত্র রমজান মাসে বান্নী পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে চুনারুঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মো: এমদাদুল হক ইমন এর ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে বান্নী পার্কের স্বত্তাধিকারী সাথী মুক্তাদির কৃষাণ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, ৮ তারিখের ঘটনার দিন আমি শ্বশুর বাড়ি ছিলাম, প্রতিষ্ঠানে আমার ম্যানেজার শংকর দেব এবং আমার মা আর বউ উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিওতে যে ছেলেটি পার্কে অপর্কম হচ্ছে বলে পার্ক বন্ধ করতে বলছিলো, তাকে আমি আগেও একবার পার্কে প্রবেশ করা নিয়ে জোরে জোরে ম্যানেজারকে ধমকাতে শুনে গেইটের দিকে এগিয়ে যাই। শুনি ছেলেটি বলছে, আমাদের টিকেট লাগে না, আমি ছাত্রনেতা! তখন ছেলেটির গায়ে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান সম্বলিত একটি গেঞ্জি পরিহিত ছিল। আমি তখন ছেলেটিকে বাবা সম্ভোধন করে টিকের ছাড়া প্রবেশের নিয়ম না থাকার কথা জানালে সে আমাকে আপনি আওয়ামীগ করেন না? এই বলে তার পাশে দাড়ানো মেয়েটিকে নিয়ে প্রবেশ গেইটের সামনে থেকে চলে যায়!
সাথী মুক্তাদির আরও জানান, যে ছেলেটি আগে কখনো পার্কের ভেতরের পরিবেশই দেখেনি সে কিভাবে প্রথম বার ঢুকেই অশ্লীলতা হয় অভিযোগ তোলে? তাছাড়া রমজান মাসে খোলা রাখার বিষয়ে ভিডিওতে সে যে সাউটিং করছিল, এতে কি কেও টেবিলে কোন প্রকার খাবার পরিবেশন করা দেখেছে? ভিডিওতে শংকরের সাথে ছেলেটার বাক বিতন্ডডা থেকে ইতিপূর্বে টিকেট ছাড়া ঢুকতে না দেয়ার প্রতিহিংসাটাই প্রকাশ পায় বেশী বলে জানান মুক্তাদির চৌধুরী।
ইমনের চাঁদা চাওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, ঘটনার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমার ম্যানেজার শংকর ফোনে আমাকে যা বলেছে সেটা লাইভ ভিডিওতেই আছে।
আর ইমন জানান, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমার রাজনৈতিক আদর্শ। তাই পবিত্র রমজানে কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সহযোদ্ধাদের নিয়ে আমি পার্কের ভেতরে গিয়ে ম্যানেজারকে রমজানে রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার কথা বলি। এবং লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে চুনারুঘাট বাসীকে বান্নী পার্কের ভেতরে যুবক যুবতীদের অবস্থানের দৃশ্যটিও দেখাই। যা ইসলাম কোনভাবেই অনুমোদন দেয় না। তাছাড়া একজন মুসলমান হিসাবে আমি ইসলামী মূল্যবোধ থেকেই রাজনৈতিক দলের উর্ধে গিয়ে কোন বিশেষ নেতা ব্যক্তিদের নাম শুনেও চুপ থাকতে পারিনি। এতে কেও চক্রান্ত করে মিথ্যা অপবাদ দিলেও আমি আমার আদর্শ অনুযায়ী এসব অন্যায়, অনিয়মের বিরোদ্ধে সোচ্চার থাকব বলে জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পবিত্র রমজান মাসে বান্নী পার্ক এন্ড রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা এবং যুবক যুবতীদেরকে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়াটা উচিত হয় নি বলে জানান। এছাড়া বান্নী পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপ হয় এমন কথাও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুনেছেন বলে মন্তব্য করেন। তবে স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে আড্ডা দেওয়াটা উদ্বেগের বিষয় বলে জানান অনেকেই।
পার্কটি সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পীরের বাজার এলাকায় অবস্থিত বান্নী পার্ক এন্ড রেস্টুরেন্ট একটি বিনোদন কেন্দ্র ও খাবারের জায়গা। এটি মূলত আড্ডা ও ভ্রমণের জন্য উপযোগী বলে মনে হয়েছে। এছাড়াও এখানের খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানো এবং এটি শিশুদের জন্য উপযোগী একটি জায়গা।
দ.ক.সিআর.২৬