
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: ইউরোপের ভিসা, মোটা বেতনের চাকরি, বিলাসী জীবন এসবের লোভ দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বনগাও গ্রামের হাছন আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন একই উপজেলার বড়াইল গ্রামের সফর আলীর ছেলে ও চুনারুঘাট ইকরা কম্পিউটার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের স্বত্তাধিকারী ঈসমাইল হোসেন বাচ্চু।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঈসমাইল হোসেন বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লোকজন পাঠানোর কাজ করছে। জুয়েল এবং ঈসমাইল হোসেন একই উপজেলার হওয়ায় দুজনেই পূর্বপরিচিত। পরিচিতির সূত্রে ঈসমাইল হোসেন জুয়েলকে ইউরোপের দেশ ইটালির ভিসা আছে, বেতন দেড় লাখ টাকার লোভ দেখায়। যেতে খরচ লাগবে ১২ লাখ টাকা। এবং উভয়পক্ষের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ২২,০০,০০০/- (বাইশ লক্ষ) টাকা সাব্যস্থ হয়। পরবর্তীতে জুয়েলের বাড়িতে আসিয়া উপস্থিত সাক্ষীগণের সম্মুখে নগদ ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেন। কথা থাকে যে, ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে ইতালি রাষ্ট্রে পাঠাইবেন ও অবশিষ্ট ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করিবেন এবং ব্যর্থতায় ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা ফেরত প্রদান করিবেন। পরবর্তীতে জুয়েলকে ইতালি রাষ্ট্রে নিতে ব্যর্থ হন বাচ্চু।
কিন্তু টাকা পাওয়ার পর ঈসমাইল হোসেন বাচ্চু জুয়েলের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন, নিরুপায় হয়ে জুয়েল বাচ্চুর বাড়িতে সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের জন্য গেলে বেরিয়ে আসে বাচ্চুর প্রতারণা। এর আগে জুয়েলের মতই কয়েকজনের কাছ থেকে সৌদি আরব এবং ইউরোপে নেয়ার লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। সহায় সম্বল হারিয়ে নিরুপায় জুয়েল বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে আদালতে ১৩/১/২৬ তারিখ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং CR- ৮১৫/২৫। আদালত এই মামলায় ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নামে M/A গ্রেফতারি পরোওয়ানা জারি করেছে।
এবিষয়ে স্থানীয় লোকজন বলেন ঈসনাইল হোসেন বাচ্চু এর আগেও বিদেশ নেয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়। দু’একজনকে বিদেশ পাঠালেও চাকরি না পেয়ে তারা দেশে ফেরত আসে। তদন্ত করে বাচ্চুকে শাস্তির আওতায় আনতে দাবি জানান ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।
দ.ক.সিআর.২৬