
নাজমুল ইসলাম হৃদয়: নীরব শক্তি থেকে নির্বাচনী ময়দানের আলোচিত এক নাম সিমি কিবরিয়া। গৃহবধূ হিসেবে সাধারণ জীবন কাটানোর পর, সিমি কিবরিয়া ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা এবং তারপর জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় এক স্বতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন তার স্বামী ড. রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে হবিগঞ্জ ১ (নবীগঞ্জ – বাহুবল) আসনে প্রার্থী হন, তখন সিমি কিবরিয়া সরাসরি মঞ্চে না উঠে পেছন থেকে দৃঢ় মেন্টরের ভূমিকা পালন করেছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের হতাশার সময়ও তিনি সকলের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা ও আত্মবিশ্বাস জোগান।
২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি আগের মতো পেছন থেকে কাজ করার ধারণা ভেঙে, সরাসরি মাঠে নেমে প্রচারণায় অংশ নেন। সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। গ্রামীণ অঞ্চলে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, বৃদ্ধা ও শিশুদের সঙ্গে মায়ের মতো আচরণ করেছেন, চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে মাটিতে বসে কথা বলেছেন। শিশুদের হাতে খেলনা ও কাপড় তুলে দিয়ে মানুষের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করেছেন। নিরলস এ প্রচারণা চালানো সিমি কিবরিয়ার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, এক বছরের কম বয়সী শিশুরাও তাঁর কোলে এসে বসছে। এই গ্রহণযোগ্যতা কোনো অভিনয় বা কৌশল দ্বারা অর্জন করা যায় না; এটি এসেছে মানবিকতা, আন্তরিকতা ও হৃদয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগের গভীরতা থেকে। তিনি কেবল মঞ্চে ভাষণ দেননি, মানুষের পাশে বসে তাদের কথা শুনেছেন, সামাজিক দায়িত্ব ও আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করেছেন।
গ্রামের সবাইকে তিনি একত্রিত করেছেন—শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, আত্মীয়তা ও দায়িত্ববোধের বন্ধনও দৃঢ় করেছেন। “মা, মাটি ও মানুষের কাছাকাছি যাও”—এই স্লোগানকে তিনি বাস্তব জীবনে রূপ দিয়েছেন।
নির্বাচনের দিন জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে স্বামী ড. রেজা কিবরিয়া কে সমর্থন জানায়, যা তার প্রচারণার সফলতার প্রমাণ। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে সিমি কিবরিয়ার সক্রিয় প্রচারণা এবং জনগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
একজন মানুষ কীভাবে অন্যদের মনোবল চাঙা করতে পারেন, তা তিনি দেখিয়েছেন—রাজনৈতিক টানাপোড়েনে হতাশার মুহূর্তে যুক্তি দিয়ে সাহস জোগানো, জনগণের কথা শুনে তাদের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া এবং কঠিন সময়ে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা।
সিমি কিবরিয়ার গল্প কেবল একজন প্রার্থীর সহধর্মিণীর নয়, এটি একজন নারীর আত্মপ্রকাশের গল্প—গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা থেকে জননেতা, মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা অর্জনকারী।
দ.ক.সিআর.২৬