
আসাদ ঠাকুর, অমনিবাস: হবিগঞ্জ জেলার দুইটি উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ক্রমেই চোরাচালান কার্যক্রমের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে।
চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার ভারত সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলো দিয়ে নিয়মিতভাবে মাদক, কসমেটিকস, জিরা ও বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ থাকায় এই অঞ্চলগুলো চোরাকারবারিদের কাছে একটি নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তের কিছু কিছু অংশ এখনও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে। রাত নামলেই এই অরক্ষিত অংশে চোরাচালান তৎপরতা বেড়ে যায়। সীমান্তের দুই পাড়ের কিছু অসাধু ব্যক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্য আনা-নেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রিসিভার হিসেবে পরিচিত মধ্যস্থতাকারীরা সক্রিয় থাকে, যাদের মাধ্যমে ক্যারিয়াররা পণ্য বহন করে নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্যারিয়ার জানান, এসব চোরাই পণ্যের বড় অংশই মাদকদ্রব্য। ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল এই রুটে প্রবেশ করছে। এছাড়া ভারতীয় হুইস্কি ও ওয়াইনসহ বিভিন্ন মদ এই পথ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
সীমান্ত বাণিজ্যে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেকে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবহারের পাশাপাশি বিকাশে লেনদেন হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সীমান্তের দুই পাশেই চোরাচালান রোধে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে এই পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত অসংখ্য সাংবাদিক বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে করে সীমান্ত অঞ্চলে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদকের বিস্তার রুখতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও যুবসমাজ রক্ষায় চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা অসাধু তৎপরতা সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
দ.ক.সিআর.২৫