
ফেসবুকের নিউজফিড আজ যেন এক বিশাল শোকবই। স্ক্রল করলেই ভেসে উঠছে একটি মুখ—হাদী। যে মানুষটি কয়েকদিন আগেও সজীব ছিল, আজ সে নিথর। তার এই অকাল চলে যাওয়া পুরো বাঙালি জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমাদের এই সমাজ নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও, একটি বিষয়ে আজ আর কোনো সন্দেহ নেই—বাঙালি আজও খাঁটি মানুষের কদর করতে জানে, সত্যের জন্য লড়তে জানে।
হাদীর এই নিথর দেহ আজ কেবল একটি মৃত্যুর সংবাদ নয়, বরং এটি একটি জ্বলন্ত প্রতিবাদ। নিউজফিড জুড়ে যে হাহাকার, যে ঘৃণা বিষাক্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে—তা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। আমরা কি তবে কেবল লাশ হওয়ার জন্যই জন্মেছি?
কিছু কুলাঙ্গার, যারা ক্ষমতার দাবার গুটিতে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা হাদীকে দংশন করেছে। তাদের চোখে হাদী হয়তো কেবল একটি সংখ্যা ছিল। তারা ভেবেছিল, একজনকে সরিয়ে দিলেই বুঝি তাদের ‘নীল নকশা’ সফল হবে, দেশটাকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া সহজ হবে। কিন্তু তারা মস্ত বড় ভুল করেছে। তারা জানত না যে, একজন হাদিকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নিলে সেই রক্তের প্রতিটি ফোঁটা থেকে কোটি হাদী জন্ম নেয় রাজপথে, প্রতিটি মানুষের ডিজিটাল দেয়ালে।
রাজনীতির মঞ্চ সাজাতে যারা লাশের অপেক্ষা করে, তাদের জেনে রাখা ভালো—বাঙালি জাতি আবেগপ্রবণ হতে পারে, কিন্তু তারা জহুরি। তারা হীরা আর কাঁচের পার্থক্য বোঝে। হাদির প্রতি এই যে জনজোয়ার, এই যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা—এটা প্রমাণ করে যে আমাদের হৃদয়ে আজও দেশপ্রেম আর মনুষ্যত্ব অবশিষ্ট আছে।
হাদীর ছোট্ট সন্তানটি আজ এতিম, তার স্ত্রীর লাল শাড়ি পরা স্বপ্নগুলো আজ ধুলোয় মিশে গেছে। এই কান্নার প্রতিটি ফোঁটা যারা ঝরিয়েছে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ক্ষমতার লোভে যারা অন্ধ, তারা হয়তো আয়নায় নিজেদের বীর মনে করে, কিন্তু জনতার চোখে তারা কেবলই ঘৃণ্য ‘নরপিশাচ’।
বাংলাদেশ কি কোনোদিন আমাদের একটু নিরাপত্তা দিতে পারবে না? আমরা কি কেবল একেকজন হাদির মৃত্যুর পর শোকগাথা লিখব? সময় এসেছে এই অপরাজনীতির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার। ষড়যন্ত্রকারীদের নীল নকশা চুরমার করে দেওয়ার জন্য এই জনজোয়ারই যথেষ্ট।
হাদী নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ আর তার মৃত্যুর প্রতি এই গণ-আবেগ আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে—অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই বাঙালির প্রকৃত পরিচয়। ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজয় নিশ্চিত, কারণ সত্যের জয় অনিবার্য।
দ.ক.সিআর.২৫