
পারভেজ হাসান, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : শ্রীমঙ্গল শহরের পদ্মা অয়েল ডিপো, যমুনা অয়েল ডিপো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পণ্যাগারের আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেলের অবৈধ কারবার চলার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনেই একাধিক চক্র বীরদর্পে চোরাই তেলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চোরাই তেলের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করা হচ্ছে বিভিন্ন চা-বাগানের গাড়ি থেকে। বিশেষ করে ফিনলে চা-বাগানের কিছু চালক তেল বহনের সময় নির্ধারিত পথে না গিয়ে চক্রের কাছে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন তেল পাম্প ও ডিলার এজেন্টের গাড়ি থেকেও অবৈধভাবে তেল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে মালিকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তারা প্রভাবিত হচ্ছেন।
এদিকে পদ্মা ডিপোতে তেল সরবরাহের সময় ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২০ লিটারের ড্রামে ২০০ লিটার তেল ভরার নিয়ম থাকলেও সেখানে কারচুপি করে ড্রামপ্রতি ২ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। ডিপোর কিছু মিটারম্যান ও লেবারের যোগসাজশে এই অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্বৃত্ত তেল ডিপোর নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা কম দামে বিভিন্ন ডিলার এজেন্টের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চা-বাগানের তেল চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিনস্টন চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মুঠোফোনে জানান, গত ১৫ অক্টোবর দুটি বাগানের চালকের বিরুদ্ধে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আগে এমন ঘটনা থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়েছে। তেল পরিবহনের সময় গাড়ির সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী পাঠানো হচ্ছে।
ড্রামে তেল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে চা-বাগানের ডিসি অফিসে আসার অনুরোধ জানান।
পদ্মা ডিপোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ.ক.সিআর.২৫