
জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক ‘মিথ্যা মামলার’ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চুনারুঘাট উপজেলার বিলপাড় খানের হেলাল মিয়া। শনিবার চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার চাচাতো ভাই আব্দুর রউফ ওরফে রঙ্গিলা সম্প্রতি মিডিয়ার সামনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’। হেলালের অভিযোগ—রউফ তাদের পাড়াপ্রতিবেশী হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তারা আপন চাচাতো ভাই। তিনি দাবি করেন, রউফ যে ১০ একর ৫৪ শতক জমির কথা বলেছেন, তা বাস্তবে নেই। তার ভাষ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ খেরার মধ্যে।
হেলাল আরও বলেন, রউফ দাবি করেছেন যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে রায়ের অনুলিপি পেয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো রায় তারা পাননি বলে দাবি করেন হেলাল। তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি সত্যিই রায় পেয়ে থাকেন তবে প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন কিংবা গণমাধ্যমের সামনে সেই রায়ের কপি উপস্থাপন করা হলো না কেন।
তিনি দাবি করেন, বরং রউফ তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন এবং সে মামলাগুলোর বেশ কয়েকটির রায় ইতিমধ্যে তারা পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি মামলার কাগজপত্র গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন—একটি ১৬১ খতিয়ান দুধপাতিল মৌজার ৪৫ শতক পুকুর এবং অন্যটি ১৬২ খতিয়ান গাজীপুর মৌজার বাড়ি সংক্রান্ত সম্পত্তি।
মূল জমির ইতিহাস তুলে ধরে হেলাল বলেন, মোট ৩৫০ থেকে ৪০০ খেরার সম্পত্তির ওয়ারিশ ছিলেন তিনজন—হাতিম উল্লা, আতিক উল্লা ও আব্দুল কাইয়ুম। তাদের পিতা ছিলেন কাজী মোল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৫৪ সালে রেকর্ড হওয়ার সময় তাদের পিতা মৃত থাকায় এবং আব্দুল কাইয়ুমের বয়স কম হওয়ায় সেই সুযোগে হাতিম উল্লা এককভাবে নিজের নামে রেকর্ড করান। হেলালের দাবি—কোনো অনুমতি ছাড়াই এককভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং প্রশস্ত সম্পত্তির অংশ মৌখিকভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।
হেলাল বলেন, যদি হাতিম উল্লার নামে ওই সম্পত্তির বৈধ খরিদ খতিয়ান বা দলিল তার ওয়ারিশরা প্রদর্শন করতে পারেন, তবে তাদের পক্ষ থেকে আর কোনো দাবি থাকবে না। অন্যথায় ঐ সম্পত্তির অর্ধেক অংশ তাদের পিতা ফিরোজ মিয়ার সঠিক ওয়ারিশ হিসেবে দাবি বহাল থাকবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রউফ মিডিয়ার সামনে বলছেন যে তিনি তার বাবার ওয়ারিশ হিসেবে ১০ একর ৫৪ শতক সম্পত্তি পেয়েছেন। কিন্তু তিনি কোথাও উল্লেখ করছেন না যে তার বাবা ওই সম্পত্তির বৈধ খরিদ ছিল কি না।
সংবাদ সম্মেলনে হেলাল চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেন—
১) আব্দুর রউফ ওরফে রঙ্গিলা,
২) শাহীন মিয়া,
৩) লুৎফুর রহমান,
৪) শামীম মিয়া।
হেলাল দাবি করেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে। তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
দ.ক.সিআর.২৫