
আসাদ ঠাকুর, অমনিবাস
চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি জমি নষ্ট করে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে ইটভাটার কার্যক্রম। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অধিকাংশ মালিক ফসলি জমির ওপরে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করছেন। আর এ সব ভাটা গড়ে উঠেছে ধানের ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ফলে পরিবেশ দূষন ও নানা রকম হুমকিতে রয়েছেন এলাকাবাসী।
তাছাড়া বৈধভাবে মাটি ক্রয়ের প্রমাণ দেখাতে না পারা এবং উর্বর কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা এই অঞ্চলের একটি বড় সমস্যা, যা জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ইট তৈরির নামে প্রতি বছর শত শত একর জমির উপরের উর্বর মাটি পুড়ে বিনষ্ট করছেন। শুধু উর্বর জমি বিনষ্ট নয়, ইটভাটা থেকে যে দূষিত গ্যাস ও তাপ নির্গত হয় তা আশে-পাশের জীবজন্তু, গাছ-পালা এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে এবং এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে উঠছে।
চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে ২৫ টির বেশি ইট ভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশের ক্ষতি করছে। হুমকির মুখে ফেলেছে শত শত একর ফসলি জমি। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এই উপজেলায় কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাবে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা ব্যাহত হবে।
সড়কের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন সরকারি আইন লঙ্ঘন হলেও অধিকাংশ ভাটার মালিক তা তোয়াক্কা করছেন না। প্রধান প্রধান সড়ক ঘেষেই গড়ে উঠছে এসব ইটভাটা।
ইট ভাটা প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, অনুমোদন না নিয়ে ইট ভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। ইট ভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটি ব্যবহার করলে প্রথম বারের জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আবাসিক জনবসতি, সংরক্ষিত এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, বনভূমি, জলাভূমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন করলে একি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদন্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে। এসব আইন সরকারের অফিস আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের সচেতন নাগরিক, কৃষি বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ।
সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসী ও সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান আইন থাকলেও চুনারুঘাট উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা মালিকরা তা মানছে না। অদৃশ্য কারনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এসব ইট ভাটার বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, ফসলি জমিগুলোতে এখন আর আগের মত ফসল হয় না। ফলে খাদ্য সংকটে পড়ছেন তারা। ইটভাটার কারণে চুনারুঘাটে হুমকির মুখে কৃষি জমি ও পরিবেশ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় এবং অভিযান পরিচালনা করা উচিত।
দ.ক.সিআর.২৫