
আলোর অঙ্গীকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, একটি ছোট্ট মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২০ ব্যাচের এক বন্ধুর সমস্যায় ওরা বন্ধুরা মিলে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সবাই মিলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেনও এবং সেই উদ্যোগ সফল হয়।
সেদিনের সেই ছোট্ট উদ্যোগ তাদের মনে একটি বড় উপলব্ধির জন্ম দেয়— চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। সামান্য সহযোগিতাও তাঁদের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। তখন থেকেই তাদের মনে একটি স্বপ্ন জন্ম নেয়—”আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াব”।
সেই সময় কারও আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। পরবর্তীতে জীবনের প্রয়োজনে সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমান, আবার কেউ দেশে থেকেই পড়াশোনা ও ছোটখাটো কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই ইচ্ছা তাদের হৃদয়ে অটুট ছিল।
একসময় তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন, এই মানবিক উদ্যোগকে একটি সুসংগঠিত রূপ দেওয়ার। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় “আলোর অঙ্গীকার”—একটি স্বপ্ন, একটি প্রতিশ্রুতি, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ
আলোর অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান নীতি হলো সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। তাদের বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু সাহায্য করা নয়; বরং তাঁর সম্মান, মর্যাদা ও আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ রাখাও দায়িত্ব।
মূল লক্ষ্য হলো—
🍚 খাদ্য: ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা।
👕 বস্ত্র: অসহায় মানুষের প্রয়োজনীয় পোশাকের ব্যবস্থা করা।
🏠 বাসস্থান: আশ্রয়হীন মানুষের আবাসনের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো।
📚 শিক্ষা: অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখতে সহযোগিতা করা।
🏥 চিকিৎসা: অসুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা।
🤝 কর্মসংস্থান: মানুষের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করা।
বিশেষ করে, তারা এমন মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, যাঁরা কোনো না কোনো কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত, কিংবা যাঁদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছানো কঠিন। কারণ তাদের বিশ্বাস, প্রকৃত মানবিকতা তখনই সার্থক হয়, যখন সাহায্য পৌঁছে যায় সেই মানুষের কাছে, যাঁর সত্যিই তা প্রয়োজন।
আট মাসের পথচলা ও অর্জন
এই পথচলার প্রথম আট মাসে তারা ১৮টি পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পেরেছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত মোট ২,৫৬,৭৪২ টাকা মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে।
তাদের প্রতিটি উদ্যোগের পেছনে রয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং একসঙ্গে ভালো কিছু করার স্বপ্ন। যেকারণে তাদের কাছে এই অর্জন শুধু অর্থের হিসাব নয়; বরং কয়েকটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ, কিছু মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা এবং নতুন করে আশার আলো জ্বালানোর গল্প।
সর্বশেষ উদ্যোগ: কর্মসংস্থান প্রকল্প:
তাদের সর্বশেষ প্রকল্প ছিল একটি কর্মসংস্থানের উদ্যোগ। এই প্রকল্পের আওতায় ৮৫,১৫০ টাকা ব্যয়ে একটি টমটম প্রদান করা হয়েছে, যাতে একজন মানুষ জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পান এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।
আলোর অঙ্গিকার বিশ্বাস করে, কাউকে একবার সাহায্য করার পাশাপাশি তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাময়িক সহায়তা একজন মানুষের বর্তমান সংকট কমাতে পারে, আর কর্মসংস্থানের সুযোগ তাঁর ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
◾স্বপ্ন:
তাদের সামর্থ্য সীমিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য ভালো কিছু করার ইচ্ছা সীমিত নয়। তারা বিশ্বাস করেন, একা হয়তো অনেক কিছু করা সম্ভব নয়; কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করলে ছোট ছোট উদ্যোগও একদিন বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
আমরা চাই, তাদের এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক। আরও বেশি অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাক, আরও বেশি মানুষের মুখে হাসি ফুটুক এবং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়ে উঠুক।
তাদের এই পথচলায় যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, যাঁরা তাদের ওপর আস্থা রাখছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে—সবার প্রতি আলোর অঙ্গিকারের উদ্যোগক্তারা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
“অন্ধকারে আলো হয়ে জ্বলাই এই তরুণদের অঙ্গীকার”
দ.ক.২৬