
জমিজমা ও বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া এক নিরীহ পরিবারের তিন সদস্যকে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে (ফিটিং দিয়ে) পুলিশ ও কতিপয় লোক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
(২৪ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এ চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক এই ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হলেন কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা ছায়েদ মিয়া, তাঁর ভাই ইউনুস মিয়া এবং ইউনুস মিয়ার তরুণী মেয়ে জাসমিন আক্তার।
চুনারুঘাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মামুনের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া ও ইউনুস মিয়ার পরিবারের সাথে বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে আজ সকালে কোর্টের হাজিরা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ছায়েদ মিয়া, ইউনুস মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার। পথিমধ্যে এসআই মামুনের নেতৃত্বে চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি দল তাঁদের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তল্লাশির নামে জোরপূর্বক তাদের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে কোনো প্রকার পরোয়ানা বা বৈধ প্রমাণ ছাড়াই তাদের তিনজনকে জোর জবরদস্তি করে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর মুহূর্তেই খবরটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একজন সাধারণ নারী সহ নিরীহ পরিবারের ওপর এমন অন্যায্য ও সাজানো ‘ইয়াবা ফিটিং’-এর ঘটনায় ফুঁসে ওঠেন কালিশিরী গ্রাম ও আশপাশের সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই শতশত উত্তেজিত জনতা চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে চুনারুঘাট থানার এসআই মামুনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের ছোট ভাই বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম থানায় ছুঠে যান। এ সময় আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল মেম্বার, লিটন মেম্বার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় মুরুব্বিরা এগিয়ে আসেন। তারা ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে অপকর্মের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাওয়া হবে। মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও এলাকায় চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
গ্রেপ্তার হওয়া পরিবারের স্বজনেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমাদের জমিজমা সংক্রান্ত মামলা কোর্টে চলছে। আজকেও মামলার হাজিরা ও আইনজীবীর সাথে দেখা করতে তারা শহরে যাচ্ছিলেন। ষড়যন্ত্র করে পথ আটকিয়ে এই নাটক সাজিয়েছে। পুলিশ যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করে এবং পকেটে মাদক ঢুকিয়ে নিরাপরাধ মানুষকে ফাঁসায়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সাজানো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কোনো নির্দোষ যেন বলির পাঠা না হয় এবং আইনের পোশাক ব্যবহার করে যারা মাদক ফিটিংয়ের মতো জঘন্য অপকর্ম করেছে, সেই এসআই মামুনসহ নেপথ্যের কারিগরদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সাজানো নাটক হলে অবশ্যই বিচার করা হবে, আইনের ব্যত্যয় কখনো ঘটানো হবে না, আমার উপর সেই বিশ্বাস রাখতে পারেন।
দ.ক.সিআর.২৬