
জীবিকার তাগিদে জায়গা-জমি বিক্রি করে, কেউবা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান । কিন্তু প্রতিশ্রুত কাজ ও বৈধ কাগজপত্র না পেয়ে অনেকের সেই স্বপ্ন পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। অভিযোগ রয়েছে বানিয়াচংয়ের দালাল রুহুল আমিন ও আবুল কালামের মাধ্যমে অনেক মানুষ বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কারো কাছ থেকে বিদেশ নেয়ার কথা বলে নিয়েছেন টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, কেউ পাচ্ছেন না প্রতিশ্রুত আকামা, আবার কেউ কাজ না পেয়ে পড়ছেন চরম অনিশ্চয়তায়। আকামা কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে বিদেশে। এতে দেশে থাকা পরিবারগুলোও পড়ছে আর্থিক ও মানসিক সংকটে।
বানিয়াচংয়ের এমনই ভুক্তভোগী চার যুবক হলেন- মোঃ মিটুন মিয়া (৩২), পিতা: আবু বক্কর মিয়া, সাং: দেওয়ান দিঘির পূর্ব পাড়।
জসিম উদ্দিন (৪৫), পিতা: ইসহাক উল্লাহ, সাং: জামালপুর।
মোঃ বাবর মিয়া (২২), পিতা: আজিজুল মিয়া, সাং: মজলিশপুর।
তায়েফ মিয়া (২০), পিতা: আশিকুর মিয়া, সাং: ইনাতখানী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে তাদের এক বছরের আকামা ও কাজ দেওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে গিয়ে মাত্র তিন মাসের আকামা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের এখনো কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। আকামা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কাজ না পেয়ে বিদেশ ভিবোরে কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, আকামার বিষয়ে জানতে চাইলে দালাল রুহুল আমিন (৪৫), পিতা: আব্দুল কদ্দুস, সাং: তাম্বলিয়ার টুলা এবং আবুল কালাম (৩০), পিতা: উমেদ আলী, সাং: জামালপুর—নানা ধরনের টালবাহানা করছেন। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানান, শুধু এই চারজন নয়, ওই দালালদের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষ বিদেশে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা চান, মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যাতে আর কোনো পরিবার জায়গা-জমি বিক্রি বা ঋণ করে বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত না হয়।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের দাবি—তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দ.ক.সিআর