মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কাউন্সিলরকে ঘিরে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে উত্তাল শায়েস্তাগঞ্জ, মানববন্ধনের ঘোষণা শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, ১৫০ জন পেলেন চশমা চুনারুঘাটে ধাওয়া শেষে আটক ডাকাতি মামলার আসামী, জব্দ প্রাইভেটকার চুনারুঘাটে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে অস্বস্তি, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা, বিল নিয়েও কারসাজি চুনারুঘাটে জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা জালালাবাদ এসোসিয়েশন: ঢাকাস্থ সিলেট বিভাগবাসীর একটি সামাজিক সংগঠন বাহুবলের বিএনপি নেতৃবৃন্দের নিন্দা ও প্রতিবাদ  চুনারঘাটে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, টালমাটাল সবজির বাজার আলোর বদলে স্ক্রিন পড়ুয়া জাতির সংকট শ্রীমঙ্গলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বননির্ভর জনগোষ্ঠীর ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা

চুনারঘাটে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, টালমাটাল সবজির বাজার

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

কা ল নে ত্র  প্র তি বে দ ক

টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে চুনারুঘাট উপজেলায় সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে সবজির দাম। কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, তেল, ডাল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী।

সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন  বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। এদিকে হঠাৎ করে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বাইরে থেকে সবজিবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে। আবার চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসছে। এছাড়া, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে দাম বাড়তি। তবে সরবরাহ সমস্যার কারণে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী একে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

বর্ষা মৌসুম এলেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, বর্ষা শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক, মুরগী থেকে গোস্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে পড়েছে বাড়তি চাপ। হবিগঞ্জ জেলার পাহাড় বেষ্টিত চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও সাপ্তাহিক বাজারে গিয়ে দামের চিত্র দেখে হতাশ আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০-৮০ টাকা, পুঁই শাক ৪০-৫০ টাকা কেজি, করলা ১০০ টাকা কেজি, ঢেঁরশ (ভ্যান্ডি) ১০০-১২০টাকা, মূলা ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৩০০- ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা, লেবু ৪০-৫০ টাকা হালি, লাউ ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ৬০ টাকা হালি পেঁপে  ৪০–৫০ টাকা এবং বরবটি ১০০–১২০, লাউ ৭০-৮০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা কেজি, জালি কুমড়া ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।

কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে আর বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বাড়ে জেনে শুনেই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে বর্ষা শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বর্ষা মৌসুমে সবজি চাষ ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা গেলে লোকসান গুনতে হবে।

এক বিক্রেতা বলেন, বর্ষা কালীন সবজি এখন কম আসছে। আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছি। আরেকজনের ভাষ্য, বর্ষা শুরুর আগে থেকেই চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি দামে চাপ পড়েছে। আমরা তো নিজেরা দাম ঠিক করি না, আড়তের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বাজারে কেনাকাটা করতে একাধিক ক্রেতা প্রতিবেদককে বলেন, ভোক্তারা সব সময় এক ধরনের ভোগান্তির স্বীকার হয়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নানা অজুহাতে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে অনেক পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা দেখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারি তদারকি বাড়লে এই প্রবণতা কমে  আসতো।

অনেকেই অভিযোগ করেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সুযোগ সন্ধানীরা সহজেই দাম বাড়াতে পারেন। ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে না পেরে বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে।
বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

দ.ক/এসএটি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews