
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার টৌশতপুরে দিনে-দুপুরে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, নারীকে মারধর এবং ক্লাবে নিয়ে গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমান বাদী হয়ে হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার, বাহুবল সার্কেল ও নবীগঞ্জ থানার ওসি বরাবর পৃথক ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় টৌশতপুর গ্রামের মতিউর রহমানের নির্দেশে তার ১০/১৫ জন সহযোগী লুৎফুর রহমানের বসতঘরে প্রবেশ করে। এসময় তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা লুৎফুর রহমানের স্ত্রীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে। পরে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর লুৎফুর রহমানকে জোরপূর্বক টৌশতপুর নজীর মার্কেট প্রবাসী ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দরজা বন্ধ করে মতিউর রহমানের নির্দেশে উপস্থিত লোকজন লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বুক, কোমর ও কিডনিতে আঘাত করে। আত্মরক্ষার চেষ্টাকালে দেয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও অন্যান্য মালামালও জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলার নির্দেশও দেয়। স্ত্রী রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, “বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। তারা আমার বসতবাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা করছে। আসামীদের ভয়ে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। বর্তমানে আমরা আসামীদের ভয়ে আতংকিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছি। যেকোনো সময় পুনরায় হামলা ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বে এই বিষয় নিয়ে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা হয়নি। বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে আগেও ১০৭ ধারায় বন্ড ছিল।”
এ ঘটনায় লুৎফুর রহমান দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও রেজিস্ট্রি ডাকের রশিদ তার কাছে রয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দ.ক.সিআর