
নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর নামক স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দ্বারা খোয়াই নদী হতে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বালু উত্তোলনে সরঞ্জাম জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (১১জুলাই) দুপুরে উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড,হবিগঞ্জ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: সামিউল আজম এবং সহকারী রেভিনিউ অফিসার শাহাদত হোসেনসহ শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল উক্ত অভিযানে সহযোগিতা প্রদান করেন।
অভিযান কালে দেখা যায় যে,ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ ১ম পক্ষ এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান cscec7- spectra jv এর পক্ষে মেসার্স শামীম বিল্ডার্স, প্রো: মো: ইকবাল হোসেন ২য় পক্ষ।
এর মধ্যে চুক্তিবদ্ধ আলাপুর মৌজার জেএল নং-১৫৬, খতিয়ান নং- ১, দাগ নং- আর এস- ৮৯০ এর সীমানার বাহিরে ২য় পক্ষ কর্তৃক আর এস ৫৭৫ ও ৪০১ নং দাগ থেকে ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালু উত্তেলন করে।
এছাড়াও কোন অনুমতি ব্যতিরেকেই স্থানীয় আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম,এর মালিকানাধীন জমি কেটে বালু তোলা হয়েছে যা চুক্তির ০৬ নং শর্তের লঙ্ঘন।
তাছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও এলাকাবাসীর সাক্ষ্য অনুযায়ী রাতেও বালু তোলা হয়েছে যা ১৬ নং শর্তের লঙ্ঘন। ৮নং শর্ত বালু উত্তোলনকালে নদীর তীর ও সংলগ্ন ফসলি জমি বা গ্রামের পরিবেশের কোনরূপ ক্ষতি সাধন করা যাবে না।
কিন্তু যত্রতত্র বালু তোলার ফলে এই শর্তও লঙ্ঘিত হয়েছে। বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয় নি যা ২২ নং শর্ত লঙ্ঘন।
বাঁধ ছিদ্র করে ড্রেজারের পাইপ প্রবেশ করানো হয়েছে যার ফলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং ড্রেজিং-এর সময় নদীর স্লোপ সংরক্ষণ করা হয় নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা জানান অবৈধ ড্রেজার দুইটি থেকে আনুমানিক ২৫০-৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত গত ৯ জুলাই উল্লেখিত এলাকার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে স্থানীয় জনপদে।
অভিযানকালে কোনো আসামী মোবাইল কোর্টে ধৃত হয়নি। আসামীদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের ব্যাপকতা ও প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং মোবাইলকোর্টের অধীনে বিচারের যোগ্য নয় বরং মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ৬(৪) ধারা অনুসারে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল তালিকা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড, হবিগঞ্জ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: সামিউল আজমের জিম্মায় দেয়া হয়।
দ.ক.২৬