
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১ নং গাজীপুর ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামে দুর্বৃত্তের হামলায় এক ব্যবসায়ী ও তার দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে উছমানপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৫) দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তার চিৎকার শুনে ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া ও অপর ছেলে এবং প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের উপরও চড়াও হয়। পরে দুর্বৃত্তরা বসতভিটায় হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জাহাঙ্গীর মিয়ার বাম হাত ভেঙে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আব্দুল মজিদ ও অপর একজন চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি হন। বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকার খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, অভিযুক্তরা মজিদ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার দুই ছেলেকে গুরুতর আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিলপাড়ের দুলাল মিয়া বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কাজে সেখানে ছিলাম। মজিদ মিয়া ও তার ছেলেদের ওপর হামলা হলে আমি থামানোর চেষ্টা করি।”
স্থানীয় মেম্বার জানান, তিনি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। সমাজসেবক ও মুরুব্বি মীর শওকত আলী সেলিম বলেন, “ঘটনা শোনার পর স্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে আহতদের হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়।”
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী (২৬ মে) মঙ্গলবার সালিশ বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু সেদিন চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন মুরুব্বি অনুপস্থিত থাকায় এবং অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে মজিদ মিয়ার ওপর ফের চড়াও হওয়ায় বৈঠক ভণ্ডুল হয়ে যায়।
নিরুপায় হয়ে আব্দুল মজিদ ২৬ মে চুনারুঘাট থানায় উপস্থিত হয়ে উস্তার মিয়া, বাচ্চু মিয়া, আক্তার মিয়া ও সুফল মিয়াকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ বলেন, “আমি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি আমাদের নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার পক্ষ থেকে এসআই আক্তার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে যাই।
দ.ক.সিআর.২৬