
আসাদ ঠাকুর: কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নিবেদিতপ্রাণ শাম্মী আক্তার এক আপোষহীন, সৎ, ত্যাগী ও একজন সংগ্রামী নারী।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সকলের পরিচিত মুখ এই নেত্রী জীবনভর সবটুকু সময় বিএনপি’র রাজনৈতিক অঙ্গণের সাথে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও তাঁর নানামুখী কার্যক্রম জনসাধারণের হৃদয়ে একজন আদর্শিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জায়গা করে নিয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপিসহ সর্বস্তরের নারী ও পুরুষকে জাগ্রত করতে শাম্মীর প্রতিনিধীত্ব নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও শাম্মীকে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে অনেক সূত্র মতে জানা গেছে।
শাম্মী হবিগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতির পথে এগিয়ে এসেছেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হবিগঞ্জ জেলা ইউনিটে সক্রিয় সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন। তার রাজনৈতিক চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়।
তার পারিবারিক ঐতিহ্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ। পিতা ছিলেন একজন মহান বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। মাতা শিক্ষিতা ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। নানা মরহুম আবুল হাশিম স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দীর্ঘদিন অধিষ্টিত ছিলেন। তিনি ছিলেব অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও হাট বাজরসহ জনকল্যাণমুলক প্রতিষ্টানের অগ্রদ্রুত। সুতরাং দেশপ্রেম, সংস্কৃতি ও জনসেবার অনুপ্রেরণা তিনি জন্মগতই পেয়ে এসেছেন। তাই রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে বহুমাত্রিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও আছে শাম্মীর অগ্রণী ভূমিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক ছাত্রী শাম্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অসংখ্য জনসভা, অবরোধ, হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় ধারাবাহিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে (মেরে পেলার জন্য) পেলে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতির মাঠেই ফিরেন। এছাও তাকে বহুবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি, মামলা, হামলা ও হুমকির মুখেও তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আত্মগোপনে না থেকে তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থেকেছেন।
শাম্মী আক্তার এবার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আগেও একবার মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শাম্মী আক্তার গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান। এখন দলের সময় এসেছে সঠিক মূল্যায়নের। সংগ্রাম, সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের রাজনীতিতে এক সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি তার আনুগত্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে একজন শক্তিশালী নারী নেতৃত্বে পরিণত করেছে। হবিগঞ্জ বাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মাঠ পর্যায়ের সুযোগ্য নেত্রীদেরকে যথাযথ ভাবে মূল্যায়ন করবেন।
দ.ক.সিআর.২৬