
স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে যাত্রীদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পূর্বের এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ টিকিটসহ গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে চক্রটির কার্যক্রম এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে র্যাব শায়েস্তাগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সোহেলের দোকান থেকে বিভিন্ন ট্রেনের ৭শ’ এর বেশি টিকিটসহ তিনজন কালোবাজারিকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫শ’ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সোহেল মিয়া (৩০), এনাম মিয়া (৩৪) ও জলিল মিয়া (৪০)। পরবর্তীতে তাদের হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এসেছে, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের সামনে অবস্থিত দিদার মার্কেটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মার্কেটের ভেতরের একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকেই টিকিট সংগ্রহ ও কালোবাজারির মূল কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানটি পরিচালনা করতেন সোহেল মিয়া ও তার বড় ভাই কাইয়ুম। তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। চক্রটি কৌশলে টিকিট সংকট তৈরি করে সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য করত বেশি দামে টিকিট কিনতে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময় ও ছুটির মৌসুমে তাদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়, ফলে প্রকৃত যাত্রীদের জন্য টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের কালোবাজারি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে সামনে পবিত্র কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসায় ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকিট কালোবাজারি যেন পুনরায় বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসনকে এখন থেকেই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
দ.ক.সিআর.২৬